খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫
ইতালির উদিনের ব্লুনার্জি স্টেডিয়ামে গতকাল অনুষ্ঠিত উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারায় টটেনহ্যাম হটস্পারকে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই নজর কাড়ে এক বিশেষ আয়োজন।
মাঠে প্রদর্শিত হয় যুদ্ধবিরোধী বার্তা, যেখানে লেখা ছিল— ‘স্টপ কিলিং চিলড্রেন’ এবং ‘স্টপ কিলিং সিভিলিয়ানস’। দুই দলের খেলোয়াড় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর পর তাদের সামনে এই ব্যানার উন্মোচন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দুই শরণার্থী শিশু। পদক বিতরণ মঞ্চে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনের পাশে সাদা টি-শার্ট পরে দাঁড়ান ১২ বছর বয়সী তালা— যিনি চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে মিলানে এসেছেন, এবং ৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ— যিনি বিমান হামলায় বাবা-মাকে হারিয়েছেন।
উয়েফার শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই উদ্যোগ শুধু ফিলিস্তিন নয়, বিশ্বের সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের যুদ্ধশিশুদের সহায়তার অংশ। তবে ম্যাচের আগে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজার শিশুদের জন্য বিশেষ মানবিক সহায়তার কথা উল্লেখ ছিল। উদ্বোধনী আয়োজনে আফগানিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া, ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনের শিশুদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
যদিও উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ, তবুও এই ব্যানারে কোনো দেশ বা অঞ্চল নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
এ আয়োজনকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয় মিশরের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহর প্রতিক্রিয়ার পর। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন দক্ষিণ গাজার সাবেক ফুটবলার সুলেইমান আল-ওবেইদ— যিনি ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ নামে পরিচিত ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ২৪ ম্যাচে দুটি গোলসহ ক্যারিয়ারে শতাধিক গোল করা এই স্ট্রাইকারের মৃত্যুতে উয়েফা তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে শ্রদ্ধা জানালেও, কোথায় এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ইসরাইলি হামলার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হয়।
সালাহ উয়েফার সেই পোস্ট শেয়ার করে নিজের এক্স হ্যান্ডলে লেখেন— ‘আপনারা কি বলতে পারেন, তিনি কীভাবে, কোথায় ও কেন মারা গেছেন?’— যা সংস্থাটির অবস্থান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলে।
খবরওয়ালা/এসআই