খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২০ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
শেয়ারবাজারের ক্রমাগত দরপতনের প্রতিবাদে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের অপসারণ দাবি জানিয়ে কফিন মিছিল ও গায়েবানা জানাজা করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
রবিবার (১৮ মে) বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে এ বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
বিক্ষোভের আয়োজক বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বিনিয়োগকারীরা প্রথমে কফিন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে হাটখোলা মোড় ঘুরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা প্রতীকী কফিন নিয়ে গায়েবানা জানাজা পড়েন।
বিক্ষোভকারীরা শেয়ারবাজারের পতনের জন্য বিএসইসির ব্যর্থতাকে দায়ী করে কমিশনের অপসারণের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। প্রায় ৩০ মিনিট বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ চলে। এ সময় একটি কফিন এনে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিলও বের করেন। মিছিলটি মতিঝিল থেকে শুরু হয়ে ইত্তেফাক মোড় ঘুরে মতিঝিলের ডিএসই ভবনের সামনে শেষ হয়। এ সময় ডিএসই ভবনের সামনে রাস্তায় বসে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ফলে ডিএসই ভবনের সামনের রাস্তায় ২০ মিনিটের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল।
মিছিল শেষে বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নামাঙ্কিত কফিন নিয়ে প্রতীকী গায়েবানা জানাজা আদায় করেন বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভকালে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজার আজ বন্দি হয়েছে এক নব্য স্বৈরাচারের আয়নাঘরে। যদি এই সরকার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তাহলে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা না হলে দাবি আদায়ে ৩৩ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে উপস্থিত হবেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা বলেন, পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের কারণে লাখো বিনিয়োগকারী পথে বসেছেন। মাকসুদের নেতৃত্বে বাজার থেকে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা মূলধন উধাও হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পুঁজি হারিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী চরম হতাশায় পড়েছেন, কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পুঁজিবাজার বোঝেন না। তার নেতৃত্বে বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তারা আরও বলেন, গতকাল এক বৈঠকে তিনি অংশীজনদের হুমকি দিয়েছেন, যাতে বাজার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক তথ্য গণমাধ্যমে না আসে এবং তার বিরুদ্ধে কেউ আন্দোলন না করে। বিনিয়োগকারীদের মতে, এই মানসিকতার কোনো ব্যক্তির দায়িত্বশীল পদে থাকা উচিত না।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের পুঁজিবাজার রক্ষা করা আমাদের কাজ নয় মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের মতে, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ খাত রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। এর আগেই বাজারে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও অনেক বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হবেন। কফিন নিয়ে রাস্তায় নামা আমাদের বাধ্য হয়েই করতে হয়েছে। এখন যদি পরিবর্তন না আসে, তাহলে আন্দোলনের মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। তাদের একটাই দাবিÑ বাজার বাঁচাতে হলে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ এবং অর্থনীতি ঘিরে নানা অনিশ্চয়তা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। পাশাপাশি উভয় বাজারেই কমেছে সবকটি সূচক।
খবরওয়ালা/এমএজেড