খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চঞ্চল মাহমুদ-শৈলকুপা ॥ ইটালী প্রবাসী আপন চাচাতো ভায়ের স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করার জেরে লাল্টু মন্ডল(৩৫) নামের একজনকে মাঠের মধ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই ভাতিজা। ঘটনাটি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ১২নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামে। নিহত লাল্টু কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের গ্যানো মন্ডলের ছেলে ও ইটালী প্রবাসী লকাই মন্ডলের আপন চাচাতো ভাই। জানা যায় কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের কওছের মোল্যার ছেলে লকাই মোল্যা দীর্ঘদিন পরিবার গ্রামে রেখে ইটালীতে বসবাস করে আসছে। এ সুযোগে লকাইয়ের স্ত্রীর সাথে তার আপন চাচাতো ভাই লাল্টু মোল্যার পরকিয়ায় জরিয়ে পরে। গত ১ বছর আগে লাল্টু লকাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বিয়ের পর আত্মগোপনে থেকে লাল্টু ও লকাইয়ের স্ত্রী কিছুদিন আগে বাড়িতে ফিরে এসে বসবাস শুরু করে। লকাই গত দুইমাস আগে ইটালী থেকে বাড়ি এসে তার স্ত্রীকে ফিরে না পেয়ে সে পূনরায় দুই ছেলেকে বাড়ি রেখে ইটালী চলে যান। মাকে ফিরে না পেয়ে লাল্টুর উপর ক্ষোভ সঞ্চার হয় সন্তানদের মধ্যে। লাল্টু বৃহস্পতিবার দুুপুরে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কাকুড়িয়াডাঙ্গা মাঠের সবুজের মাছের ঘেরের নিকট পৌছালে লকাইয়ের দুই ছেলে মিরাজ(২২) ও মিমতাই(২৪) লাল্টুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্বজনরা তাকে সাথে সাথে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ১২নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক বিশ^াস জানান, পারিবারিক কলহে কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামে চাচাকে দুই ভাতিজা কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে জানান। প্রত্যক্ষদর্শী সাহেব আলী জানান, দুপুরে তিনি মাঠের মধ্যে বসে ছিলেন। কোথা থেকে এসে লাল্টু তার পাশে বসে। একটু পরেই দুই যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে লাল্টুকে কোপাতে থাকে। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম চৌধূরী জানান পারিবারিক দ্বন্দে ১২নং নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের কাকুড়িয়াডাঙ্গা গ্রামে লাল্টু নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। হত্যাকারীদের আটকের জন্য অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।