খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৯ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক সেবন করে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। এ ছাড়া একই এলাকায় এক শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের ছাত্রী।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা রবিবার সকালে শ্রীপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আকতার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত মো. আরমান মিয়া (২৭) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি থাকেন শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের দরগারচালা গ্রামের মাঝেরটেকে। ধর্ষণচেষ্টার মামলার আসামি করা হয়েছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শিবপুর গ্রামের আব্দুল মালেককে (২২)। তিনি মাওনা উত্তরপাড়ায় থেকে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
মেয়েটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, দুপুর থেকেই তার মেয়েকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় বনের ভেতর চিৎকারে শব্দ শুনে সেদিকে এগিয়ে যান স্থানীয়রা। বনের ভেতরের নির্জন স্থানে হাতেনাতে ওই শিশু ও আরমানকে আটক করা হয়। তখন শিশুটি জানায়, ‘তাকে ধর্ষণ করে সে দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেছে আরমান।’ পরে আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তিনি কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ধারণ করে তার তিন বন্ধুর মোবাইলে পাঠিয়েছেন। এরপর তাকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ভুক্তভোগী মেয়েটির মা শারীরিক প্রতিবন্ধী। আর বাবার মাছ বিক্রির টাকায় তাদের সংসার চলে।
ধর্ষণচেষ্টার শিকার মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে মাদ্রাসায় যাচ্ছে না আমার মেয়ে। কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, শিক্ষক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। এরপর শনিবার রাতে স্থানীয়রা ওই শিক্ষককে ধরে গণপিটুনি দেয়।’
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আকতার বলেন, ‘শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আর শিশু ধর্ষণচেষ্টায় বাবা মামলা করেছেন। দুটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। দুটি শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
খবরওয়ালা/এসআর