খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) তাদের জাতীয় দলের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবং বিশ্বখ্যাত কোচ গ্যারি কারস্টেনকে লঙ্কানদের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এই ঘোষণা দেয়। লঙ্কান ক্রিকেটের হাই পারফরম্যান্স কাঠামোর আমূল পরিবর্তন এবং তরুণ প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ মাস্টারমাইন্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায়ের পর দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান লঙ্কান কিংবদন্তি সনাৎ জয়াসুরিয়া। তার উত্তরসূরি হিসেবে গ্যারি কারস্টেনের নাম ঘোষণা করায় ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কারস্টেনের নিয়োগ কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে তিনি দুই বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল লক্ষ্য হবে ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করা।
গ্যারি কারস্টেন আধুনিক ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে স্বীকৃত। বিশেষ করে এশিয়ান কন্ডিশনে তার কোচিং দর্শন অত্যন্ত কার্যকর। ২০১১ সালে তার অধীনেই ভারত দীর্ঘ ২৮ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এরপর তিনি নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব নিয়ে প্রোটিয়াদের টেস্ট ও ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে পৌঁছে দেন। লঙ্কান শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নামিবিয়া ক্রিকেট দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন, যা ছোট দলগুলোর উন্নয়নে তার দক্ষতার পরিচয় দেয়।
নিচে গ্যারি কারস্টেনের কোচিং ও খেলোয়াড়ি জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | বিবরণ ও মাইলফলক |
| কোচিং সাফল্য (ভারত) | ২০১১ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়। |
| কোচিং সাফল্য (দ. আফ্রিকা) | ২০১৩ সালে তিন ফরম্যাটে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর। |
| খেলোয়াড়ি রান (আন্তর্জাতিক) | সর্বমোট ১৪,০৮৭ রান। |
| টেস্ট সেঞ্চুরি সংখ্যা | ২১টি (দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে)। |
| চুক্তির মেয়াদ (শ্রীলঙ্কা) | ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পরবর্তী ২ বছর। |
| প্রধান লক্ষ্য | ২০২৭ আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। |
শ্রীলঙ্কা দল বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিদায় এবং তরুণদের ধারাবাহিকতার অভাব দলটিকে আইসিসি ইভেন্টগুলোতে পিছিয়ে দিয়েছে। কারস্টেনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে লঙ্কান ব্যাটারদের টেকনিক্যাল উন্নতি ঘটানো এবং ফিল্ডিং ইউনিটে ক্ষিপ্রতা ফিরিয়ে আনা। লঙ্কান বোর্ড আশা করছে, কারস্টেনের শান্ত স্বভাব এবং গভীর ক্রিকেটীয় জ্ঞান ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা কমিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে।
কোচিংয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় হিসেবেও গ্যারি কারস্টেন ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং স্তম্ভ। ১৯৯৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রোটিয়াদের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শাসন করেছেন। একজন বাঁহাতি ওপেনার হিসেবে তার ধৈর্য এবং লম্বা সময় ক্রিজে টিকে থাকার ক্ষমতা ছিল প্রবাদতুল্য। তার এই বিশাল অভিজ্ঞতা লঙ্কান ওপেনারদের জন্য এক বড় পাঠশালা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই নতুন অধ্যায়টি কীভাবে বিশ্বমঞ্চে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ক্রিকেট প্রেমীদের প্রত্যাশা, কারস্টেনের জাদুকরী স্পর্শে লঙ্কান লায়নরা আবারও বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তিতে পরিণত হবে।