নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় একটি নির্জন সড়কের পাশে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত এক বৃদ্ধকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় মনির হোসেন নামের এক মাইক্রোবাসচালককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি বুধবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার বাগদি এলাকার পাঁচদোনা–ঘোড়াশাল সড়কের পাশে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মাইক্রোবাস বাগদি এলাকার সড়কের পাশে থামে। ওই সময় গাড়ির ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় থাকা এক বৃদ্ধকে নামিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পড়তেই তারা দ্রুত এগিয়ে যান এবং চালককে আটক করেন। মুহূর্তেই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন চালককে মারধর করে এবং পরে পুলিশকে খবর দেয়।
আটক ব্যক্তির নাম মনির হোসেন। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
খবর পেয়ে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা বৃদ্ধকে দ্রুত উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন দাবি করেন, তিনি গাবতলী এলাকার একটি পাম্পের সামনে থেকে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বৃদ্ধকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার গাড়িতে তুলে দেন। তাদের কথামতো তিনি বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িতে ছিলেন। তবে পথিমধ্যে পুলিশের ঝামেলার আশঙ্কা ও আতঙ্কে তিনি নির্জন স্থানে নামিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এত গুরুতর আহত অবস্থায় একজন মানুষকে কেন এবং কীভাবে গাড়িতে তোলা হলো, আবার কেনই বা তাকে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হলো—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের পুরো চক্র উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।