খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) আসনের নির্বাচনী লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই মির্জাগঞ্জ উপজেলায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কিসমত রামপুর এলাকায় ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের অভিযোগে সৈয়দ কামাল হোসেন নামে এক জামায়াত কর্মীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে শেষ পর্যন্ত মুচলেকা দিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সৈয়দ কামাল হোসেন মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের মীরা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল প্রতীক)-এর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে তিনি গোপনে টাকা বিলি করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন তালুকদারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে কিসমত রামপুর এলাকায় হাতেনাতে আটক করেন।
সুমন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, “কামাল হোসেন অন্তত ৫০ হাজার টাকা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন ঈগল প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনার জন্য। আমরা তাকে ঘেরাও করে তল্লাশি চালাই এবং তার কাছে নগদ টাকা পাই। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতেই তিনি এই অসাধু উপায় অবলম্বন করছিলেন।”
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযুক্তের নাম | সৈয়দ কামাল হোসেন |
| রাজনৈতিক পরিচয় | কর্মী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| ঘটনাস্থল | কিসমত রামপুর, মাধবখালী ইউনিয়ন, মির্জাগঞ্জ |
| অভিযোগের ধরণ | ঈগল প্রতীকের পক্ষে টাকা দিয়ে ভোট কেনা |
| উদ্ধারকৃত অর্থ | ২৫ হাজার টাকা (পুলিশের ভাষ্যমতে) |
| গৃহীত ব্যবস্থা | মুচলেকা গ্রহণ ও মুক্তি প্রদান |
| সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকা | পটুয়াখালী-১ |
আটক হওয়ার পর সৈয়দ কামাল হোসেন ভোট কেনার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো সাধারণ ভোটারকে টাকা দিচ্ছিলেন না। বরং নির্বাচনের দিন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের আপ্যায়ন ও যাতায়াত খরচ বাবদ টাকা পৌঁছে দিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পুলিশ সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে কামাল হোসেনকে স্থানীয়দের কবল থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, বরং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে থানায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোসা. মলিহা খানম জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরাসরি টাকা বিতরণরত অবস্থায় বা ভোট কেনার অকাট্য প্রমাণসহ পাওয়া যায়নি। যেহেতু সরাসরি কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ মেলেনি, তাই ভবিষ্যতে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শর্তে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাধবখালী এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তবে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরণের অর্থ লেনদেন বা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বর্তমানে মির্জাগঞ্জ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।