খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন ১১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে অধিকাংশই পথচারী, সাইকেল আরোহী ও মোটরসাইকেলচালক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে এ উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয় রবিবার (২২ জুন) রাজধানীর শ্যামলীতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায়।
বেলা সাড়ে ১১টায় ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন সকলের জন্য প্রয়োজন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রোড সেফটি প্রকল্পের সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
সড়ক নিরাপত্তা আইনের আলোচ্য বিষয়ে উপস্থাপনায় শারমিন রহমান বলেন, বিশ্বে রোডক্র্যাশে মৃত্যুর ৯২ শতাংশ নিম্ন ও মধ্যেম আয়ের দেশে এবং মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে পথচারী, সাইকেল ও মোটরসাইকেল আরোহী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক প্রয়োগ ব্যতীত দেশে রোডক্র্যাশ কমানো বা রোধ করা সম্ভব নয়। সঠিক আইন ও তার প্রয়োগের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা, যা বর্তমানে একটি বড় সমস্যা, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। তাই সবার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’।
সভায় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক শুভ্র দেবের সঞ্চালনায় নিরাপদ সড়ক জোরদারকরণে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) সাধারণ সম্পাদক ও ইউএনবির বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক জামিউল আহ্ছান শিপু এবং দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার নিজস্ব প্রতিনিধি ইমন রহমান।
এ সময় আলোচকরা বলেন, সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ এবং এর বিধিমালা মূলত সড়ক পরিবহণ খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এগুলো যথেষ্ট নয়। সড়ক অবকাঠামো ও যানবাহনের নিরাপত্তা, সড়ক ব্যবহারকরীর (বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী) নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সুতরাং, সড়কে সব ধরনের সুরক্ষা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য পৃথক ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপনে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহণ বিধিমালা-২০২২ মূলত পরিবহণ সংক্রান্ত আইন। তাই সড়ককে অধিকতর নিরাপদ করতে ও রোডক্র্যাশ কমাতে এ আইন ও বিধিমালা যথেষ্ট নয়। এ জন্যই জাতিসংঘ প্রস্তাবিত বর্ণিত ৫টি বিষয়কে (বহুমুখী যানবাহন ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার, রোডক্র্যাশ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ করণ) বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন অতীব জরুরি।
খবরওয়ালা/আরডি