খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং বন্যপ্রাণীর উপদ্রবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। শ্রীলঙ্কার ‘অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড অ্যাগ্রেরিয়ান ইন্স্যুরেন্স বোর্ড’ (AAIB) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসকে ‘কৃষি বীমা মাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির প্রান্তিক কৃষকদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কীটপতঙ্গ এবং বিশেষ করে বন্যহাতির আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য হলেও গত কয়েক বছরে অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। একদিকে তীব্র খরা এবং অন্যদিকে আকস্মিক বন্যার ফলে শস্যহানি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি বন্যহাতির লোকালয়ে প্রবেশ এবং ফসলের মাঠ তছনছ করা কৃষকদের আয়ের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে। এই আর্থিক ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যেই সরকার সাশ্রয়ী প্রিমিয়ামে ব্যাপকভিত্তিক বীমা সুবিধা চালু করছে।
এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ফসলের জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ও প্রিমিয়ামের হার নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
| ফসলের ধরণ | প্রতি একরে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ (LKR) | প্রিমিয়ামের হার (বীমাকৃত মূল্যের শতাংশ) | সম্ভাব্য প্রিমিয়াম ব্যয় (LKR) |
| কাউপি, মুগ ডাল, তিল, কাউন ও ঘোড়া ছোলা | ৬০,০০০ টাকা | ৭% | ৪,২০০ টাকা |
| মিষ্টি আলু, কাসাভা, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো ও কুমড়া | ১০০,০০০ টাকা | ৭% | ৭,০০০ টাকা |
| অন্যান্য প্রধান শস্য (ধান, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন) | নির্ধারিত পলিসি অনুযায়ী | আলোচনা সাপেক্ষে | প্রয়োজন অনুযায়ী |
নতুন এই বীমা পলিসিটি অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে সাজানো হয়েছে যাতে কৃষকরা প্রায় সব ধরণের প্রতিকূলতার বিপরীতে সুরক্ষা পান। এই কর্মসূচির আওতায় যেসকল ঝুঁকি কভার করা হবে তার মধ্যে রয়েছে:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা।
বন্যপ্রাণী: বন্যহাতির আক্রমণ, যা শ্রীলঙ্কার কৃষকদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
বালাই ও রোগবালাই: ক্ষতিকর পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এবং ফসলের বিভিন্ন মহামারি রোগ।
দুর্ঘটনা: অনিচ্ছাকৃত অগ্নিকাণ্ড যা পুরো মাঠের ফসল ধ্বংস করে দিতে পারে।
শ্রীলঙ্কান মুদ্রার বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (১ ডলার = ৩১০.৯৮ এলকেআর), কৃষকদের জন্য এই প্রিমিয়াম অত্যন্ত সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মিষ্টি আলুর এক একর জমিতে ১ লক্ষ টাকার সুরক্ষার জন্য একজন কৃষককে মাত্র ৭,০০০ টাকা খরচ করতে হবে। এতে করে সাধারণ কৃষকরা বড় ধরণের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন এবং পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহিত হবেন।
AAIB-এর মতে, এই বীমা মাস উদযাপনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সচেতন করা হবে এবং তাদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে বীমা পলিসি গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। এটি কেবল কৃষকদের আয় নিশ্চিত করবে না, বরং দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।