খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো দারিদ্র ও অসহায় মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেবা প্রদানের অঙ্গীকারের আড়ালে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার, ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী নিয়মিতভাবে কম দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই সরবরাহ করা হয় না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অবগত থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ রোগীরা ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং তাদের পরিবারের অভিজ্ঞতা মর্মস্পর্শী। এক রোগীর পরিবার জানান, হাসপাতালের বরাদ্দকৃত খাবার অনেক দিনই দেওয়া হয়নি, এবং রোগীকে বাইরে থেকে খাওয়া আনতে হয়েছে। “আমরা চিকিৎসা খরচ সামলাতে গিয়ে খাবারের জন্যও বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এটা অমানবিক,” বলছেন তারা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, রোগীদের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ও মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে বাস্তবে তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ করছে।
প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরকারি হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়। এতে রোগীর পরিবারকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে, যা দরিদ্রদের জন্য অত্যন্ত ভোগান্তিকর।
হাসপাতালের ক্রয় কার্যক্রমও দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত বিল দেখানো, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং কাগজে-কলমে ক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে অর্জিত রাজস্বও যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
| অনিয়মের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| খাবার বরাদ্দ | কম পরিমাণ, নিম্নমানের, অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ |
| ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী | রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না, বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে |
| ক্রয় ও খরচ | অতিরিক্ত বিল, নিম্নমানের পণ্য, কাগজে-কলমে অর্থ লোপাট |
| রাজস্ব আয় | সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ |
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং দায়িত্বশীলদের একাংশ নীরবতা বা প্রত্যক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে এসব অনিয়মকে টিকিয়ে রাখছে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে এই ধরনের লোপাট ও দায়মুক্তি শুধুমাত্র দুর্নীতির সমস্যা নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যখন চিকিৎসার জন্য আশা করে সরকারি হাসপাতালের দিকে তাকায়, তখন সেবা না পেয়ে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অনলাইনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হাসপাতালগুলোতে এই ধরনের অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে তা এক বিশাল স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হবে।”