খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
শহীদ মিনারে বুধবার সন্ধ্যায় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের আয়োজন করা বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সতত সলিল’-এ ফিরে এসেছে সলিল চৌধুরীর শিল্প ও আদর্শ। গান, আলোচনা, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে সলিলের অবদান স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন হাবিবুল আলম। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক সায়েম রানা এবং উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার।
আলোচকরা বলেন, সলিল চৌধুরীর গান আন্দোলনের প্রাণ। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, শ্রমিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন—সব জায়গায় তার গান মানুষের মনোবল জাগিয়েছে। কবিতা ও মিছিলের স্লোগানকে তিনি গান ও সুরে রূপান্তরিত করেছিলেন। বক্তারা আরও বলেন, ‘গণসংগীত কখনোই সহজ গ্রহণযোগ্য নয়; তবে প্রতিটি সংগ্রামে এটি মানুষকে শক্তি ও সাহস দেয়। সলিল চৌধুরীর সৃষ্টি যুগে যুগে প্রাসঙ্গিক থাকবে।’
সংগীত পরিবেশনায় উদীচী সংগীত বিভাগ ও কোরাস বৃন্দগান পরিবেশন করে। একক গান করেন তানভীর আলম সজীব ও মনসুর আহমেদ। নৃত্য পরিবেশনা করে স্পন্দন ও আদৃতা আনোয়ার প্রকৃতি। আবৃত্তিতে অংশ নেন উদীচী আবৃত্তি বিভাগ; একক আবৃত্তি করেন শাহেদ নেওয়াজ।
১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন সলিল চৌধুরী। ২২ বছর বয়সে রচনা করেন ‘গাঁয়ের বধূ’। পশ্চিমা সুর থেকে অসমিয়া লোকগান পর্যন্ত বিস্তৃত সঙ্গীতভুবনে তিনি গণসংগীতকে আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ‘দো বিঘা জমিন’-এর সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি ১৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। আজ শহীদ মিনারে তাঁর গান প্রতিধ্বনিত হলো মানুষের সাহস, সংগ্রাম ও মানবমুক্তির চিরন্তন সুরে।