খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩১ | ১৮ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি এ অঞ্চলের জন্য একটি মডেল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
সোমবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাহফুজ আলম এ কথা বলেন।
মাহফুজ আলমের পোস্ট বাংলায় অনুবাদ করে দেওয়া হল:
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধের কৌশল এ অঞ্চলের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, বিশেষ করে ইসলামোফোবিয়ার উত্থান, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশকেই লাভবান করবে না।
সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, সহিংসতা এবং মুসলমানদের—বিশেষত মুসলিম নারী ও শিশুদের—প্রতি ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব এ অঞ্চলের সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। সহিংসতার ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রায় সকল দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, বেশিরভাগ সহিংসতা সাম্প্রদায়িক কারণের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত ছিল।
যখন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, সহিংসতা ও ইসলামোফোবিয়া রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায়, গণমাধ্যমের প্রচারণায় এবং জনতার উন্মাদনায় রূপ নেয়, তখন এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। কোনো রাষ্ট্র তার নিজ দেশের নাগরিকদের এবং সীমান্তের ওপারের মুসলমানদের ইসলামবিদ্বেষী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারে না।
বাংলাদেশের সামনে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া উচিত। আমাদের শুধু গঙ্গার উত্তর-পশ্চিমাংশে সীমাবদ্ধ না থেকে বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে একটি নতুন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
দারা শিকোহ, রাজা রামমোহন রায় ও কাজী নজরুল ইসলামের স্বপ্নের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্মের নামে চরমপন্থা এবং ইসলামোফোবিয়া এ অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়কে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
স্থিতিশীলতা নিহিত রয়েছে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও এ অঞ্চলের সকল ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতার মধ্যে।
খবরওয়ালা/এমবি