খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৯ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় গত রোববার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস ও লিভার সিরোসিসসহ বিভিন্ন ক্রনিক অসুস্থতায় ভুগতে থাকা খালেদা জিয়ার নতুন এই সংক্রমণ চিকিৎসকদের আরও সতর্ক করে তুলেছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এর আগে-পরে দলের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার গাড়ি হাসপাতালের প্রবেশপথে দেখা যায়। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন। তাঁদের মুখে ছিল নেত্রীকে নিয়ে উদ্বেগের ছাপ এবং সুস্থতার প্রত্যাশা। অনেকেই বলেন, সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে রাতেও তাঁরা শুধু খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি জানতেই সেখানে এসেছেন।
এদিকে দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদমাধ্যমকে জানান, চিকিৎসকদের মতে খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে বোর্ড সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া চান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকে মাঝেমধ্যেই শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়ায় তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।