খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মাত্র কয়েকটি সুপারি চুরির তুচ্ছ অভিযোগে ৯ বছরের এক শিশুকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউসা গ্রামে। নিহত শিশুর নাম মো. ইমন, যে ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। প্রতিবেশীর এমন অমানবিক আচরণে পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক দিন আগে। প্রতিবেশী আতাহার আলী (৩২) শিশু ইমনের বিরুদ্ধে তার গাছ থেকে সুপারি চুরির অভিযোগ তোলেন। গ্রাম্য বিচারে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং ইমনের পরিবারকে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু এতেও ক্ষোভ মেটেনি আতাহারের। শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আতাহার আলী পরিকল্পিতভাবে ইমনকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাকে নির্মমভাবে প্রহার শুরু করেন। শিশুটির আর্তচিৎকার যেন ঘরের বাইরে না পৌঁছায়, সেজন্য সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিটুনির এক পর্যায়ে ইমন নিস্তেজ হয়ে পড়লে আতাহার পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করতে গেলে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিচে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহত শিশুর নাম | মো. ইমন (৯ বছর) |
| পিতার নাম | দুলাল মিয়া |
| অভিযুক্তের নাম | আতাহার আলী (৩২) |
| ঘটনার স্থান | বাউসা গ্রাম, স্বদেশী ইউনিয়ন, হালুয়াঘাট |
| অভিযোগের কারণ | সুপারি চুরির অপবাদ |
| বর্তমান অবস্থা | অভিযুক্ত পলাতক; পুলিশি তদন্ত চলমান |
একটি ৯ বছরের শিশুর সামান্য সুপারি চুরির অপরাধের (যদিও তা প্রমাণিত নয়) শাস্তি হিসেবে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বে গ্রাম্য বিচারে জরিমানা করার পরও আতাহার আলীর এমন জিঘাংসা চরিতার্থ করার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ইমনের পরিবার এখন বাকরুদ্ধ। তারা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপরাধী আতাহার আলী পলাতক থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত আতাহার আলীকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার পর আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।
নির্দোষ শিশুর এই অকাল মৃত্যু আমাদের সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের চরম পতনকে নির্দেশ করে। তুচ্ছ কারণে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রুখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।