খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে নানা ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫৯ জন নারী ও কন্যা শিশু।
এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৫ জন। সোমবার (৬ অক্টোবর) হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১০ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে, যৌন নিপীড়নের শিকার ২০ জন। পারিবারিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯ জন, আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন, আহত হয়েছেন ১৮ জন। যৌতুকজনিত সহিংসতায় নিহত ২ ও আহত ১ জন।
ওই মাসে ১৩৩ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে; এর মধ্যে ২৫ জন নিহত এবং ১০৮ জন শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতিত।
রাজনৈতিক সহিংসতা
সেপ্টেম্বর মাসে ৩৭টি রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৯ জন, আহত ২৬৮ জন। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ২৪টি ঘটনায় নিহত ৭, আহত ১৯২ জন; বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৭টি ঘটনায় নিহত ১, আহত ৪২ জন; বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৩টি ঘটনায় আহত ৩২ জন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৯ জন (আওয়ামী লীগ ৩, বিএনপি ৪), আহত ৬ জন।
সাংবাদিক নির্যাতন
ওই মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ৩২টি ঘটনায় ভুক্তভোগী হয়েছেন ৪২ জন। এর মধ্যে নিহত ১, আহত ২০, লাঞ্ছিত ৯, হুমকিপ্রাপ্ত ৬ জন। খুলনার অভিজ্ঞ সাংবাদিক ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু নিহত হন এবং কক্সবাজারে তরুণ সাংবাদিক মোহাম্মদ আমিন ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন।
মব সহিংসতা
সেপ্টেম্বরে ২৮টি মব বা গণপিটুনির ঘটনায় নিহত ২৪ জন ও আহত ২১ জন। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফেনীতে দুজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ভুলবশত পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা
দেশজুড়ে ৮টি ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতার ঘটনায় ২টি মন্দিরে হামলা, ২০টি প্রতিমা ভাঙচুর এবং ৫টি মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। খাগড়াছড়ির গুইমারায় পাহাড়ি কিশোরী ধর্ষণের প্রতিবাদে অবরোধ চলাকালে সেনাবাহিনীর গুলিতে ৩ জন পাহাড়ি নিহত হন।
সীমান্ত সহিংসতা
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত হন ২ জন, গ্রেপ্তার ১৩ জন এবং ১৩২ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইন করা হয়। এছাড়া, আরাকান আর্মি বঙ্গোপসাগর থেকে ৫টি ট্রলারসহ ৪০ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু
হেফাজতে ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৮ জন নিহত হন—এর মধ্যে হেফাজতে ৪ জন, গুলিতে ৪ জন। এছাড়া, দুজন র্যাব-পুলিশের তাড়া খেয়ে পানিতে ডুবে মারা যান এবং কারাগারে মারা যান আরও ৫ জন আসামি।
সুপারিশ
এইচআরএসএস বলেছে, রংপুরের হারাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্তৃক অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা শিশু অধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ। দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সব স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংস্থাটি নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার রক্ষাকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিয়েছে।
এছাড়া সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
খবরওয়ালা/আশ