খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, জমিদার, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক নেতা সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর ৯৬তম মৃত্যুদিবস আজ। তিনি ১৮৬৩ সালে মাতামহ ও নাটোরের জমিদার মুহম্মদ আলী খান চৌধুরীর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জনাব আলী চৌধুরী ছিলেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর জমিদার। তার মাতার নাম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
নওয়াব আলী চৌধুরী শৈশবে গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফার্সি ও বাংলায় বিশেষ শিক্ষা লাভ করেন।
তার আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এবং পরবর্তীকালে তিনি কলকাতার সেন্ট জোভিয়ার্স কলেজ থেকে এফএ পাস করেন। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত তার কর্মতৎপরতা ছিল প্রধানত সাহিত্য ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক। তিনি কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলো হলো— ঈদুল আযহা (১৮৯০), মৌলুদ শরীফ (১৯০৩), ভারনাকুলার এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৯০০), প্রাইমারি এডুকেশন ইন রুরাল এরিয়াস্ (১৯০৬)।
১৯১১ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি মানপত্রে নবাব সলিমুল্লাহ ও নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জের ঢাকায় অবস্থানকালে নওয়াব সলিমুল্লাহ ও নওয়াব আলীসহ ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে মুসলমানদের যে সমূহ ক্ষতি হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরেন।
এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট নাথান কমিটি গঠিত হলে নওয়াব আলী চৌধুরী এর অন্যতম সদস্য হন। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চাপা পড়ে যায়।
সে সময় নওয়াব আলী চৌধুরী ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯১৭ সালের ৭ মার্চ ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সভায় তিনি বিষয়টিকে আবার উপস্থাপন করেন।
১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল অ্যাক্টে পরিণত হয় এবং ২৩ মার্চ তা গভর্নর জেনারেলের অনুমোদন লাভ করে। লর্ড হার্ডিঞ্জ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নয় মাস পর ১৯২১ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। ১৯২২ সালে নওয়াব আলী চৌধুরী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি বাবদ ১৬ হাজার টাকার একটি তহবিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদান করেন।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে অর্থাভাব দেখা দিলে তিনি নিজ জমিদারির একাংশ বন্ধক রেখে এককালীন ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
খবরওয়ালা/এমইউ