খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি ছড়িয়ে পড়ার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। আর এই আতঙ্কের মূল বাহক এখন সোশ্যাল মিডিয়া। হোয়াটসঅ্যাপের ফরওয়ার্ড মেসেজ বা ফেসবুক পোস্টে ‘আর একটি বড় ভূমিকম্প আসছে’—এই ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য বা ভবিষ্যদ্বাণী এখন নতুন সমস্যা তৈরি করেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘ভূমিকম্প-ইনফোডেমিক’। কিন্তু এই গুজবের ওপর নির্ভর করে মানুষ সময়মতো নিরাপদ অবস্থানে চলে যেতে ব্যর্থ হয়, যা জীবন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘ভদ্র গুজব’ বা Good-Intention Rumour বলে থাকেন। সাধারণত মানুষ কাউকে সতর্ক করার বা সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তথ্য যাচাই না করে ফরওয়ার্ড করে। কিন্তু এই তথ্যের উৎস হতে পারে অজানা বিদেশি সংবাদমাধ্যম, জ্যোতিষশাস্ত্র বা স্থানীয় কোনো ভুল বার্তা। প্রথম দেখায় এটি সচেতনতা প্রদর্শন মনে হলেও, আসলে এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভূমিকম্পের গুজব সমাজে তিনটি বড় সমস্যা তৈরি করে—
১. আসল সতর্কতাকে উপেক্ষা করা: বারবার মিথ্যা সতর্কবার্তা পেলে মানুষ যখন সরকারি বা জরুরি সতর্কতা পায়, সেটিকেও তারা গুজব মনে করে উপেক্ষা করে।
২. প্যানিক ও দুর্ঘটনা: ভিত্তিহীন গুজবের কারণে মানুষ দ্রুত ঘর ছাড়ে বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়, যা পদদলিত হওয়া বা অন্য দুর্ঘটনার কারণ হয়।
৩. জরুরি সেবার অপব্যবহার: মিথ্যা সতর্কতার কারণে ফায়ার সার্ভিস বা জরুরি সেবা কর্মীদের মনোযোগ অপ্রয়োজনীয় দিকে চলে যায়, ফলে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা ব্যাহত হয়।
ভূমিকম্পের সঠিক তথ্য বা সরকারি সতর্কতার জন্য কেবল তিনটি নির্ভরযোগ্য উৎসের ওপর নির্ভর করা উচিত—
১. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD):
ভূমিকম্প হওয়ার তাৎক্ষণিক তথ্য যেমন মাত্রা, উৎসস্থল ও গভীরতা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি উৎস হলো BMD। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ নিয়মিত অনুসরণ করা উচিত। বিদেশি কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে তথ্য ভিন্ন দেখালেও BMD-এর তথ্যই বাংলাদেশে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (MoDMR):
ভূমিকম্পের পর সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের করণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি সতর্কতা জারি হচ্ছে, তা এই মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে। শুধুমাত্র MoDMR-এর প্রেস রিলিজ বা জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বার্তা অনুসরণ করা উচিত।
৩. Google Earthquake Alerts (অ্যান্ড্রয়েড সতর্কতা):
আপনার স্মার্টফোন এখন একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে বিল্ট-ইন এই ব্যবস্থা শত শত কোটি ফোনকে মিনি-সিসমোমিটার হিসেবে ব্যবহার করে। কম্পন শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে ফোনে ‘Drop, Cover, and Hold’ বার্তা চলে আসে। ব্যবহারকারীরা তাদের ফোন সেটিংসে গিয়ে ‘Earthquake Alerts’ চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
মনে রাখবেন, গুজব ছড়ানো শুধু সামাজিক ক্ষতি নয়, এটি ফৌজদারি অপরাধও হতে পারে। দেশের Cyber Security Act অনুযায়ী, যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সুতরাং নিজেকে এবং সমাজকে রক্ষা করতে, কোনো তথ্য যাচাই না করে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো মেসেজ পেলে তার সত্যতা অবশ্যই সরকারি উৎস থেকে যাচাই করুন।