খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সৌদি আরবে টানা তিন দিনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার ‘সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত অপরাধের’ দায়ে দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে শনিবার ও রবিবার আরও ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, যাদের অধিকাংশই বিদেশি এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ২০২২ সালের মার্চের পর এই প্রথম। ওই বছর একদিনেই ৮১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
শনিবার ও রবিবার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জন হাশিশ এবং একজন কোকেন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৩৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা গত বছরের মোট সংখ্যা (৩৩৮) ছাড়িয়ে যেতে পারে। মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রথম প্রকাশের পর (১৯৯০ দশক) এটিই হতে পারে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এএফপির বিশ্লেষণে বলা হয়, এ বছর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৩৯ জনের মধ্যে ১৬১ জন মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত এবং ১৩৬ জনই বিদেশি নাগরিক।
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ-এর প্রতিনিধি জিদ বাসিউনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে যেখানে হাশিশ ব্যবহারের অপরাধীকরণ তুলে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে সৌদি আরবে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বাড়ছে—এটি উদ্বেগজনক। আর এতে বিদেশিদের সংখ্যাই বেশি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে সৌদি আরব যে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ শুরু করেছিল, এখন তারই ফল হিসেবে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছিল সৌদি সরকার। তবে ২০২২ সালের শেষ দিকে তা আবার চালু করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় এবং এটি সমাজে নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে সহায়ক। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে একটি ‘উন্মুক্ত ও সহনশীল সমাজ’ গঠনের প্রচেষ্টার বিপরীতে এই মৃত্যুদণ্ডের প্রবণতা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সূত্র: এএফপি
খবরওয়ালা/টিএসএন