খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত জামায়াত কর্মীর নাম নাসির উদ্দিন (৩৫)। তিনি পাথরঘাটা বাজারে মুরগি ব্যবসায়ী এবং পৌর জামায়াতের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেলে পাথরঘাটা পৌরসভার সামনের পুকুরপাড়ে এক ছাত্রী বন্ধুকে নিয়ে ফুচকা খেতে গেলে পৌর ছাত্রশিবিরের সম্পাদক নাঈম তাকে উত্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নাঈমকে গালাগাল করলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায়।
সন্ধ্যার পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা সালিস বৈঠকে বসেন বিষয়টি সমাধানের জন্য। তবে বৈঠক চলাকালে ছাত্রদলের কিছু কর্মী মোটরসাইকেলে করে শহরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির বজলুর রহমানের মালিকানাধীন ফার্মেসিতে হামলা চালানো হয়। তখন প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াত কর্মী নাসির উদ্দিনকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে পাথরঘাটায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন।
এ সময় পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব রহমান খান বলেন, ‘ছাত্রলীগের কিছু সাবেক কর্মী বিএনপিতে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় প্রশাসনের ওপরই পড়বে।’
পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাসুদুল আলম বলেন, ‘জামায়াতের পৌর আমির ও নাসির উদ্দিনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। নাসির মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। আমরা থানায় মামলা করেছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
অন্যদিকে, পাথরঘাটা পৌর বিএনপির সদস্যসচিব এসমাইল সিকদার বলেন, ‘একটি উত্ত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। তবে কে কাকে কুপিয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।’
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঘটনার পর থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শহরের পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, তাই পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন করে টহল জোরদার করা হয়েছে।’
খবরওয়ালা/এন