আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২৪ আগস্ট) আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দলের এই কড়া মনোভাবের কথা ব্যক্ত করেন।
রুহুল কবির রিজভী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে একক সমর্থন কে পাবেন, তা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মতামত, জনসম্পৃক্ততা ও যোগ্যতা বিবেচনা করেই দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দেওয়া প্রস্তাব এবং প্রার্থীদের আগের রাজনৈতিক রেকর্ড যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
যেহেতু এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না, সে কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি স্থানে দলের একক শক্তি নিশ্চিত করাই হাইকমান্ডের লক্ষ্য। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বকে নিজেদের এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সার্বিক যোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন শেষেই যোগ্য প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন রিজভী।
সাংগঠনিক গতিশীলতা ধরে রাখার বিষয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জোর দিয়ে বলেন, দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিতভাবে সামনের দিকে পরিচালনা করাই এখন দলের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি তিনি সব স্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা জনগণের পাশে থেকে সরকারের জনকল্যাণমুখী কাজের বিস্তারিত বার্তা পৌঁছে দেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন।
তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী মন্তব্য করেন, নেতারা যখন সরাসরি সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন, তখন কারোরই অনৈতিক কিংবা দলের স্বার্থবিরোধী চিন্তা করার কোনো অবকাশ থাকবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে বিএনপি কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বা কাজ করবে না। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে এবার শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো।
নির্বাচনী কার্যক্রম, নির্দেশিকা ও ভোটার সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যের জন্য নাগরিকেরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর পোর্টালে ভিড় করতে পারেন।



