খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
ফুটবল মাঠে গোলের পর ডাগআউটে অস্থির পায়চারি, গোলের উল্লাসে শূন্যে ঘুষি মারা কিংবা ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের কানে কানে নিভৃতে কৌশলী পরামর্শ প্রদান—গত এক দশক ধরে ইতিহাদ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকদের কাছে এগুলো অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রিয় দৃশ্য। এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই নাম, তিনি হলেন পেপ গার্দিওলা। তবে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ডকে ঘিরে এখন ইতিহাদের আকাশে জমছে বিদায়ের ঘন কালো মেঘ। ফুটবল বিশ্বে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—গার্দিওলা কি নীল জার্সিধারীদের ডাগআউটে আরও থাকবেন, নাকি দশ বছরের বর্ণাঢ্য সম্পর্কের ইতি টেনে বিদায় জানাবেন?
ম্যানচেস্টার সিটির সাথে গার্দিওলার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এখনও এক বছর বাকি। তবে চুক্তি নবায়ন নিয়ে স্প্যানিশ এই কোচের ধীরস্থির ভঙ্গি সমর্থকদের মনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গার্দিওলা নিজে জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতির সময় তিনি সম্ভবত নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিবিড়ভাবে ভাববেন। তবে চূড়ান্ত ঘোষণাটি আসতে পারে মৌসুমের একদম শেষে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এফএ কাপ ফাইনাল এবং প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচের পরই ফুটবল বিশ্ব জানতে পারবে গার্দিওলার পরবর্তী গন্তব্য।
৫৫ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি গত এক দশকে অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি আর্সেনালকে হারিয়ে কারাবাও কাপ জেতার পর তার বুনো উদযাপন সিটির প্রতি তার আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের পর তার একটি মন্তব্য নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, “আগামী বছর দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।” অনেকে একে সিটিতে থেকে যাওয়ার সংকেত হিসেবে দেখছেন, আবার ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি হয়তো তার উত্তরসূরির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ার ইঙ্গিত।
সিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ গার্দিওলার ওপর কোনো কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করছে না। বছরের পর বছর ধরে তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়েছে, তা অতুলনীয়। সিটি ফুটবল ডিরেক্টর হুগো ভিয়ানা অবশ্য বসে নেই। পেশাদারিত্বের খাতিরে গার্দিওলার প্রস্থানের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সম্ভাব্য কোচদের একটি তালিকা তিনি ইতিমধ্যেই তৈরি করেছেন।
গার্দিওলার সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকা:
| কোচের নাম | বর্তমান/সাবেক ভূমিকা | বিশেষত্ব |
| জাবি আলোনসো | বেয়ার লেভারকুসেন | আক্রমণাত্মক ফুটবল ও কৌশলগত দক্ষতা |
| এনজো মারেস্কা | চেলসি (সাবেক সিটি সহকারী) | গার্দিওলার দর্শনের সাথে গভীর পরিচিতি |
| ভিনসেন্ট কোম্পানি | বায়ার্ন মিউনিখ | সিটির কিংবদন্তি অধিনায়ক ও নেতৃত্বের গুণ |
| রুবেন আমোরিম | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (সাবেক স্পোর্টিং লিসবন) | ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা ও তরুণদের উন্নয়ন |
গার্দিওলা যদি শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি ক্লাব ফুটবলে বিরতি নিতে পারেন। গুঞ্জন রয়েছে, তিনি ব্রাজিল বা ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী। তবে সিটির সমর্থকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, গার্দিওলা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ইংল্যান্ডের অন্য কোনো ক্লাবকে তিনি কখনোই কোচিং করাবেন না। সিটির প্রতি তার এই আনুগত্য সমর্থকদের হৃদয়ে তাকে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
আগেভাগে বিদায়ের ঘোষণা দিলে দলের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং খেলোয়াড়দের মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্ভবত এই কৌশলগত কারণেই গার্দিওলা নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তিনি কি আরও এক মৌসুমের জন্য চুক্তি বাড়াবেন, নাকি সাফল্যের শিখরে থেকেই প্রস্থান করবেন? উত্তর জানতে ভক্তদের আগামী মে মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন ইতিহাদের সেই জাদুকরী ডাগআউটের দিকে।