খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অনিশ্চয়তা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আবারও আন্দোলনের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠা শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজ চত্বরে জড়ো হয়ে ঘণ্টাব্যাপী স্লোগান, মানববন্ধন ও মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবি নতুন করে উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে কলেজের সামনের মিরপুর সড়ক অবরোধ করে তারা টানা দুই ঘণ্টা অবস্থান নেন, যা রাজধানীর যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে।
দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান তাদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সাত কলেজকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বললেও এখনো পর্যন্ত এর অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়নি। বিষয়টি ঝুলে থাকার কারণে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম:
আব্দুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগামী শনিবার পর্যন্ত আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে অধ্যাদেশ জারি না হলে রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে আমরা শিক্ষা ভবনের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি শুরু করব। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”
শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দ্বিধা, মন্ত্রণালয়ের ধীরগতি ও নীতিনির্ধারকদের অনীহা তাদের অ্যাকাডেমিক ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তির ঝামেলা, পরীক্ষায় বারবার বিলম্ব, সেশনজট—সব মিলিয়ে তারা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে।
পটভূমি বিশ্লেষণ:
ঢাকার সাত সরকারি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, পূর্বাচল কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ—দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। কিন্তু সে ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, সেশনজট ও পরীক্ষা পরিচালনায় ধীরগতির অভিযোগ বহুদিন ধরেই ছিল।
এ কারণে সরকার নীতিগতভাবে এই সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলায় বিষয়টি ঝুলে আছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া-না হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তারা চাকরি আবেদন, উচ্চশিক্ষা ও ক্রেডিট ট্রান্সফারসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন।
বিক্ষোভের দিন যা ঘটেছে:
বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার সাত কলেজের শত শত শিক্ষার্থী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে জমায়েত হন। সেখানে তারা প্রথমে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। পরে মিছিল নিয়ে বের হয়ে মিরপুর সড়কে অবস্থান নেন। তাদের আকস্মিক সড়ক অবরোধে প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তা পারাপার বন্ধ থাকায় মিরপুর, ধানমণ্ডি ও আজিমপুর এলাকায় বড় ধরনের যানজট তৈরি হয়।
অবশেষে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন এবং শনিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চলে যান।
সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন করে জোরালো হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এবার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে শিক্ষামহল।