খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১১ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশে স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (২৮.৩৪৯৫ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ৪ হাজার ডলার ছুঁয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে প্রতি ভরির (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
স্বর্ণের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে প্রধান পাঁচটি কারণ তুলে ধরা হলো—
১. বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের ঝড়
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দামের উর্ধ্বগতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ফল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাপক স্বর্ণ ক্রয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়ায় প্রতি আউন্সে ৪,০৩৭.৯৫ ডলার (প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা)।
২. অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ আশ্রয়
অর্থনৈতিক মন্দা বা মুদ্রাস্ফীতির সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন, কারণ এমন সময় স্বর্ণ তার মূল্য ধরে রাখতে পারে বা বাড়ায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইসরাইল-গাজা সংঘাতের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার হার বৃদ্ধি
২০২২ সাল থেকে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতিবছর ১,০০০ টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনছে, যা ২০১০–২০২১ সালের গড় ৪৮১ টনের দ্বিগুণেরও বেশি। বিবিসির তথ্যমতে, গত বছর পোল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত, আজারবাইজান ও চীন স্বর্ণ কেনায় শীর্ষে ছিল।
৪. টাকার মান হ্রাস
বাংলাদেশ সরাসরি বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আমদানি না করলেও স্থানীয় বাজার আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২০২১ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। ফলে আমদানির ব্যয় বেড়ে স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫. সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি
বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ থেকে ৪০ টন স্বর্ণের চাহিদা থাকলেও এর প্রায় ৮০ শতাংশই আসে অনানুষ্ঠানিক পথে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দেশে প্রবেশ করেছে প্রায় ৪৫.৬ টন স্বর্ণ, যা চাহিদার তুলনায় কম। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও উৎসবের সময়ে সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম আরও বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, টাকার মান হ্রাস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়প্রবণতা একসঙ্গে মিলে স্বর্ণের বাজারকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেছে—যা নিকট ভবিষ্যতে কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
খবরওয়ালা/এন