খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের হত্যাকারী হিসেবে পরিচিত শুটার রহিমকে গোয়েন্দা পুলিশ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে নরসিংদী থেকে আটক করেছে। অভিযানের সময় রহিমের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর আগে অপর আসামি মোঃ বিল্লালকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডটি ৭ জানুয়ারি রাতে ঘটেছে। ওই দিন মুছাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় আড্ডা দেন। আড্ডা শেষ করে রাত ৮টার দিকে বাসার উদ্দেশে রওনা দিলে, মাত্র ১০ মিনিট পর আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত আসামি তাকে গুলি করে। মুছাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার সময় তিনি সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে বাঁচাতে এগোলে, আসামিরা মাসুদকেও গুলি করে।
পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। মাসুদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২) ওই দিন তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা মামলার মূল আসামিদের ধরার জন্য তৎপর ছিল। পুলিশের একটি টিম বিশেষ নজরদারিতে থেকে রহিমের অবস্থান সনাক্ত করে এবং নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেফতার করে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলির মধ্যে একটি পাইপগান এবং একটি পিস্তল রয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিচে হত্যাকাণ্ড ও গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | ঘটনা | স্থান/বিস্তারিত | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৭ জানুয়ারি | মুছাব্বির ও মাসুদ গুলিবিদ্ধ | তেজতুরি বাজার, তেজগাঁও | মুছাব্বির নিহত, মাসুদ আহত |
| ৭ জানুয়ারি | হত্যা মামলা দায়ের | তেজগাঁও থানা | মামলার অভিযোগ দায়ের |
| ২৩ জানুয়ারি | প্রধান আসামি রহিম গ্রেফতার | নরসিংদী | দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার |
| — | অপর আসামি মোঃ বিল্লাল গ্রেফতার | — | রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে |
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গোয়েন্দা পুলিশ আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন আসামিকে খুঁজছে।