খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নাম — অধ্যাপক মেহের কবীর। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক এবং রোকেয়া হলের প্রভোস্ট। তাঁর কর্মজীবন, মনন ও মানবিক অবদান তাঁকে আজও অনন্য করে রেখেছে।
১৯২১ সালের ৫ জুন দিনাজপুরে তাঁর জন্ম। শৈশব থেকেই ছিলেন মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন কলকাতার বেথুন কলেজ ও স্কটিশ চার্চ কলেজে। পরবর্তীতে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের অধীনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন—যা নিজেই এক গৌরবের ইতিহাস।
১৯৪২ সালে তিনি কলকাতার ইউনিভার্সিটি কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ফলিত রসায়নে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবনের পথচলা। এরপর দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় নিজেকে নিবেদিত করেন।
অধ্যাপক মেহের কবীর শুধু শিক্ষক নন—তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবী ও লেখকও। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করে মানবতার সেবায় এক অনন্য ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে।
লেখালেখিতেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। দেশি-বিদেশি বহু সাহিত্যকর্ম তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন, বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে করেছেন সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১০ সালে তাঁকে প্রদান করা হয় রোকেয়া পদক।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর সহধর্মিণী। তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শিক্ষায়ন ও সমাজসেবার আদর্শ আজও অনুপ্রেরণার উৎস। অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত “মেহের কবীর বিজ্ঞান সাহিত্য পুরস্কার” বাংলা একাডেমির মাধ্যমে বিজ্ঞানবিষয়ক লেখালেখিতে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।
২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর, ৯৭ বছর বয়সে এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আমাদের ছেড়ে চলে যান। তবে তাঁর জীবন, কর্ম ও আদর্শ আজও আমাদের আলোকিত করে রাখে।
অমর হোক তাঁর স্মৃতি ও অবদান।
শ্রদ্ধাঞ্জলি