খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার (৭৪)–এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন জেলা মহিলা দলের একজন নেত্রী (বয়স ৩৬)। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যা গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত নেতার কথিত অনৈতিক প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির একাধিক অডিও ক্লিপও। তবে বিশ্বনাথ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী নেত্রী বর্তমানে জেলা মহিলা দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তার বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলায়। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্বনাথ সরকার বিগত চার মাস ধরে তাকে বারবার অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করেছেন, অশ্লীল ভাষায় কথা বলেছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।
তিন পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রের অনুলিপি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে ভুক্তভোগী লিখেছেন, তিনি গুরুতর অ্যানিমিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার মেডিকেল ভিসা পেতে বিশ্বনাথ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই বিশ্বনাথ সরকার তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তাকে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন এবং সরাসরি বিয়ে ও যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন।
তার ভাষায়, ‘বিশ্বনাথ বাবু আমাকে বলেন, “তোমাকে আমি সাত বছর ধরে নজরে রেখেছি। তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” এমনকি ভারতে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার সব খরচ বহনের প্রস্তাব দেন। রাজশাহীর হোটেলে সময় কাটানোরও অনৈতিক প্রস্তাব দেন।’

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘আমি তাঁকে বিনীতভাবে বলেছি, আপনি আমার পিতার বয়সী এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষ। তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাকে ফোন না করতে অনুরোধ করলেও তিনি গভীর রাতে ফোন করে অনৈতিক ও অশ্লীল কথাবার্তা বলতেন।’
ভুক্তভোগী জানান, এসব ফোনালাপ রেকর্ড করে তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল এবং মহিলা দলের সভানেত্রী অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালীকে শুনিয়েছেন। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং তাকে কেন্দ্রীয় দলে অভিযোগ না করতে চাপ দেওয়া হয় এবং টাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘আমি এখন দলের কয়েকজনের হুমকির মুখে রয়েছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং দলীয় কর্মসূচিতেও যেতে পারছি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা দলের সভানেত্রী শামসাদ বেগম মিতালী বলেন, ‘এটি আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি কিছু বলতে চাই না।’ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শালও একইভাবে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিশ্বনাথ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তার পিতার বয়সী। রাজনৈতিক কারণে যোগাযোগ করতে হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি জানিও না।’ তিনি অডিও ক্লিপ, টাকার প্রস্তাব বা কেন্দ্রে অভিযোগের বিষয়ও অস্বীকার করেন।
খবরওয়ালা/এন