খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দুই ব্যাচের বন্ধুদের ঈদের ছুটিতে আয়োজন করা একটি ভিন্নধর্মী মিলনমেলার গল্প এখনও হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশক আগে এসএসসি পাস করা বন্ধুরা এবার স্মৃতির আঙিনায় ফিরে গিয়েছিলেন মাঠের লড়াইয়ে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ মুখরোচক দৃশ্যে পরিণত হয়। আয়োজন ছিল ‘বন্ধু উৎসব কুমারখালী’ এর ব্যানারে। আনন্দঘন রং-বেরঙের ভ্যান র্যালি, আতশবাজি ও পটকার শব্দে শহরের প্রধান সড়কগুলো মাতানো হয়। র্যালিতে কেবল বন্ধুদেরাই নয়, তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন, যা উৎসবের উচ্ছ্বাসকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে।
মূল আকর্ষণ ছিল প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। দুই ব্যাচের বন্ধুরা ভাগ করা হয় দুটি দলের মধ্যে:
| দল | ব্যাচ | দলীয় নাম | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| দল A | 1998 | ফকির ওয়ারিয়র্স ৯৮ | বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, হাস্যরসপ্রধান খেলা |
| দল B | 1999 | মিসকিন মনস্টার ৯৯ | প্রাণবন্ত লড়াই, বন্ধুত্বের উদযাপন |
মাঠে প্রতিযোগিতা শুরু হয় ব্যাট ও বলের মাধ্যমে। খেলোয়াড়রা যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখান, তেমনই সতীর্থদের সাথে হাসি-মজার মুহূর্ত উপভোগ করেন। খেলায় শেষে জয় আসে ফকির ওয়ারিয়র্স ৯৮-এর হাতে, কিন্তু মিসকিন মনস্টারদের মধ্যে হারের কোনো ক্ষোভ নেই; বরং দিনশেষে ট্রফিটা ছিল শুধু প্রতীক, আসল জয় হয়েছিল বন্ধুত্বের।
এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কবি ও নাট্যকার এ জে রতন বলেন,
“প্রতি বছর আমরা অপেক্ষা করি কবে সবাই একসাথে হবো। কর্মব্যস্ত জীবনে এই ছোট ছোট আনন্দগুলোই আমাদের বেঁচে থাকার টনিক।”
দুই দলের মজার নামকরণ এবং বন্ধুত্বের উৎসবমুখর পরিবেশ শহরের মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে। মাঠের চারপাশে ভিড় জমে গেছে বন্ধুত্বের এই বিচিত্র লড়াই উপভোগ করতে।
দিনভর চলা এই আয়োজন পুরস্কার বিতরণ ও হাস্যরসপূর্ণ মেলবন্ধনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। ‘বন্ধু উৎসব কুমারখালী’ এর উদ্যোক্তাদের মতে, এই আয়োজন কেবল ক্রিকেট খেলা নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা সম্পর্কের সুতোকে পুনর্নির্মাণের এক অনন্য প্রয়াস।
স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও আনন্দের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে, সময়ের স্রোত যতই বয়ে যাক, প্রকৃত বন্ধুত্ব চিরকাল অমলিন থাকে।