খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের অনড় অবস্থানের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্বেগ এখন স্পষ্টভাবে হতাশায় রূপ নিয়েছে। ইরানের খার্গ দ্বীপে সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি তুলে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত তেহরানকে সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছিল। ওয়াশিংটন আশা করেছিল, এমন পদক্ষেপ ইরানকে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য করবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুমকি মূলত মার্কিন প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত ব্যর্থতার প্রকাশ।
খার্গ দ্বীপে হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের তেল উত্তোলন ও রপ্তানি ব্যবস্থাকে চাপের মুখে রাখতে চেষ্টারত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে মার্কিন প্রশাসনের হাতে সীমিত বিকল্প আছে। তাই সামরিক হুমকির বদলে ওয়াশিংটন মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল বেছে নিয়েছে। তবে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে এই নীতি এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, খার্গ দ্বীপের ওপর হামলার হুমকি নতুন নয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে প্রায় দুই হাজারবার বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, কিন্তু তেলের রপ্তানি অব্যাহত ছিল। ফলে কেবল অবকাঠামোগত হুমকি দেখিয়ে ইরানকে মাথা নত করানো কঠিন।
ইরানের সামরিক কমান্ডাররা বারবার ঘোষণা করেছেন, পারস্য উপসাগরের কোনো জ্বালানি বা সামরিক অবকাঠামো আক্রান্ত হলে তাদের প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হবে। সম্প্রতি দেওয়া বিবৃতিতে ইরান সতর্ক করেছে যে, মার্কিন বা ইসরায়েলি পক্ষ থেকে কোনো উস্কানি পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে থাকা ‘জায়নিস্ট অক্ষ’ ও মিত্রদের স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানবে।
বর্তমানে ওয়াশিংটনের জন্য বিকল্প সীমিত। তেলবাহী জাহাজগুলোকে সামরিক পাহারায় পার করানো থেকে শুরু করে সরাসরি হামলার হুমকি—কোনোটিই হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারেনি। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং ইরানের পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনকে কোণঠাসা অবস্থায় রেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কৌশল সীমিত ও কার্যকর নয়।
নিচের টেবিলটি হরমুজ সংকটের মূল বিষয় ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে:
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| হুমকির কেন্দ্র | খার্গ দ্বীপে সামরিক অবকাঠামো | ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য: তেহরানকে চাপের মুখে রাখা |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | কঠোর ও অনড় অবস্থান | পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ও রপ্তানি অব্যাহত রাখা |
| ইতিহাস | ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দুই হাজার হামলা | তেলের রপ্তানি রুদ্ধ হয়নি; সামরিক হুমকি কার্যকর হয়নি |
| মার্কিন কৌশল | মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও সামরিক হুমকি | সরাসরি ফলপ্রসূ নয়; বিকল্প সীমিত |
| সম্ভাব্য জটিলতা | ইরানের প্রতিক্রিয়া ও মিত্রদের ক্ষতি | হুমকি বাড়লেও ওয়াশিংটনের নীতি কার্যকর হয়নি |
সংক্ষেপে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামরিক হুমকি এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের দৃঢ় অবস্থান ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন পরিকল্পনাকে সীমিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ও মধ্যপ্রাচ্যে তার নীতির সীমার প্রতিফলন।
ফলে, হরমুজ ফাঁদে এখন ট্রাম্প প্রশাসন “হতাশ” অবস্থায় পড়েছে, এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রয়োজন।