খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড–এর ২০২৬ সালের নিলাম আগামী ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই নিলামে মোট ৬৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। তবে ভারতীয় মালিকানাধীন চার ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিয়ে ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইয়র্কশায়ারের ব্যাটসম্যান হ্যারি ব্রুক ইতিমধ্যে ভারতীয় মালিকানাধীন দল সানরাইজার্স লিডস (সাবেক নর্দার্ন সুপারচার্জার্স)–এর সঙ্গে ৪ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই টুর্নামেন্টে ব্রুক সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় হিসেবে নজরকাড়া উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন। গত দুই মৌসুমে তিনি সুপারচার্জার্সের অধিনায়কত্ব করেছেন, তবে এবার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেবেন না।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সুপার এইট ম্যাচের পূর্বদিন ২৬ বছর বয়সী ব্রুক বলেছেন,
“এই মুহূর্তে আমার প্রধান লক্ষ্য হলো টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা। দ্য হানড্রেডের বিষয়ে আমি কোনো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি না; দল যা ভালো মনে করবে, সেটাই হবে।”
পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ব্রুক মন্তব্য করেন,
“পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটে শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত। তাদের দলে বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের কাউকে দ্য হানড্রেডে না দেখা দুঃখজনক।”
বিবিসি জানায়, ইসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত নয় এমন দলগুলোই পাকিস্তানি খেলোয়াড় নিতে আগ্রহী হতে পারে।
নিম্নলিখিত টেবিলে দ্য হানড্রেডের দলগুলোর মালিকানার ধরন তুলে ধরা হলো:
| দল | মালিকানার ধরন | আইপিএল সম্পর্কিত? |
|---|---|---|
| ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস | ভারতীয় মালিকানাধীন | হ্যাঁ |
| এমআই লন্ডন | ভারতীয় মালিকানাধীন | হ্যাঁ |
| সাউদার্ন ব্রেইভ | ভারতীয় মালিকানাধীন | হ্যাঁ |
| সানরাইজার্স লিডস | ভারতীয় মালিকানাধীন | হ্যাঁ |
| বার্মিংহাম ফিনিক্স | স্থানীয় মালিকানাধীন | না |
| লন্ডন স্পিরিট | স্থানীয় মালিকানাধীন | না |
| ট্রেন্ট রকেটস | স্থানীয় মালিকানাধীন | না |
| ওয়েলশ ফায়ার | স্থানীয় মালিকানাধীন | না |
পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ইতিমধ্যেই ইসিবিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের পর থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা আইপিএলে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সুপার ২০ লিগে কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড় খেলেননি, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি২০–র ভারতীয় মালিকানার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও গত চার মৌসুমে পাকিস্তানি ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত করেনি।
এভাবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও মালিকানাগত কারণে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দ্য হানড্রেডে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা খেলাধুলার ন্যায্য সুযোগ ও বৈচিত্র্য হ্রাস করছে।