খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটির নাম আফরান। তার পিতা আল আমিন। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ ছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় এবং পরে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে চিকিৎসকেরা জানান।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পরই তার অবস্থা গুরুতর ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে শিশুটির বাবা আল আমিন দাবি করেন, প্রথমে শিশুটির শরীরে ঠান্ডা, জ্বর এবং ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ায় তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগের দিন শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও প্রয়োজনীয় সময়ে নার্সদের সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তাদের মনে হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের পরিচালক এবং শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যাদের বয়স কম এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। সময়মতো চিকিৎসা এবং জটিলতা এড়াতে দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
| সময়/পর্যায় | ঘটনা |
|---|---|
| অসুস্থতার শুরু | জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয় |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় |
| হাসপাতালে ভর্তি | কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় |
| চিকিৎসা চলাকালীন | অবস্থা গুরুতর, ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয় |
| পরিবারের সিদ্ধান্ত | তাৎক্ষণিকভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি |
| মৃত্যু | শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় মৃত্যু হয় |
এ ধরনের ঘটনা শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে টিকাদান কর্মসূচি ও দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।