খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির এক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চারটি আলাদা মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জালিয়াতি ও মিথ্যা হিসাবপত্র তৈরি করে এলসির বিপরীতে কয়লা আমদানি ও খালাসের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুদক এই মামলাগুলো দায়ের করে।
মামলার আসামিরা হলেন: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যশোরের নওয়াপাড়া শাখার সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট খান মো. হাফিজুর রহমান, মেসার্স আয়শা ট্রেডিংয়ের মালিক ফাতেমা বেগম, মেসার্স তাহমিদ ট্রেডিংয়ের মালিক নাজমা খাতুন, মেসার্স এস এম কর্পোরেশনের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং মেসার্স এস রেজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহীন রেজা।
মামলার বিবরণ:
প্রথম মামলা: আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬২ কোটি ১৭ লাখ টাকার কয়লা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিলের মধ্যে কোনো মার্জিন ছাড়াই এলসির বিপরীতে কয়লা আমদানি ও খালাস করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
দ্বিতীয় মামলা: তাহমিদ ট্রেডিংয়ের মালিক নাজমা খাতুন এবং ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩১ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২২ সালের ২ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে একই প্রক্রিয়ায় এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
তৃতীয় মামলা: এস এম কর্পোরেশনের মালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩২ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কোনো প্রকার মার্জিন ছাড়াই কয়লা আমদানি ও খালাস করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
চতুর্থ মামলা: এস রেজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহীন রেজা এবং ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে তারা এই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭ক, ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন