খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে আরও একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ মাস পর বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এনায়েত উল্যাহ নামের এক ব্যক্তি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার আবেদন করেন।
মামলায় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ফেনী জেলা প্রতিনিধি ও জুলাই আন্দোলনের সময় আহত সাংবাদিক শফি উল্লাহ রিপন; দৈনিক ফেনীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাখাওয়াত হোসেন ডন চৌধুরী এবং দৈনিক ফেনীর নিজস্ব প্রতিবেদক সাহেদ সাব্বিরকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়াও, মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সাংসদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী-২ আসনের সাবেক সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজিসহ ১০৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার বাদী এনায়েত উল্যাহ সোনাগাজী উপজেলার পূর্ব সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগপত্রে বাদী বলেছেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বাদীসহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় নয়জন নিহত এবং দুই শতাধিক ছাত্র-জনতা আহত হন। এসময় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিতেও বাধা দেওয়া হয়। পেশায় শ্রমিক হওয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় এবং পরিবারের খরচ বহন করার কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
এদিকে, মহিপালের গণহত্যা এবং বহুজনকে গুলিবিদ্ধ করার মতো নৃশংস ঘটনায় সাংবাদিকদের জড়ানোর এই প্রচেষ্টায় ওইদিন রাতে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কর্মরত সাংবাদিকরা এক জরুরি বৈঠক করেন। তারা মামলার নামে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। সভায় তারা সাংবাদিক হয়রানির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
এত দেরিতে মামলা করার কারণ জানতে চাইলে বাদী এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমি আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে। সব আসামিকে আমি চিনি।’
হামলায় সাংবাদিকদের জড়িত করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে হামলার ঘটনার পোস্ট রয়েছে।’ এক পর্যায়ে তিনি ফোনে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলে কল কেটে দেন।
এ প্রসঙ্গে ফেনী জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুহাইমিন তাজিম বলেন, ‘ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পর এমন মামলা করাটা সন্দেহজনক। মূলত গণঅভ্যুত্থানের ফলে হওয়া প্রকৃত মামলাগুলোকে দুর্বল করে এবং জুলাই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে অনেকে এখন এসব মামলা দায়ের করছে। এটি এক কথায় বিচারের নামে অবিচার। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
সম্প্রতি দৈনিক দেশ রূপান্তর ও দৈনিক ফেনী পত্রিকায় সোনাগাজীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উল্লিখিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় আগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
খবরওয়ালা/টিএসএন