খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
শিক্ষকরা সমাজের ভিত্তি এবং নৈতিকতার দিশারী হিসেবে বিবেচিত হলেও কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা এই মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ডাউনার্স গ্রোভ সাউথ হাইস্কুলের ৩০ বছর বয়সী শিক্ষিকা ক্রিস্টিনা ফর্মেলা। তার বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে ৫০ বারেরও বেশি যৌন সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযুক্ত এই শিক্ষিকা গত বৃহস্পতিবার আদালতে তার কথিত যৌন নির্যাতনের শিকার কিশোরের কাছাকাছি বসবাস করার অনুমতি চেয়েছিলেন, যা বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দেন।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে ক্রিস্টিনা ফর্মেলার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ক্রিমিনাল সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট এবং দুটি গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে আরও ৫২টি অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়, যা একাধিকবার ছাত্রটিকে যৌন শোষণের প্রমাণ বহন করে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফর্মেলা অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তার কলেজ জীবনের প্রেমিক ও বর্তমান স্বামী মাইকেল ফর্মেলা এখনও তার পাশে রয়েছেন। মাইকেল দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর চেহারা ও আকর্ষণ তাকে ফাঁসানোর কারণ হতে পারে।
বর্তমানে ফর্মেলা তার বাবা-মায়ের ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার মূল্যের একটি গলফ কোর্সের পাশে অবস্থিত বাড়িতে বসবাস করছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার পায়ের গোড়ালিতে ইলেকট্রনিক মনিটর পরানো হয়েছে। বর্তমান আইনি নিয়মে তাকে ভিকটিম থেকে কমপক্ষে ৫,০০০ ফুট দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তবে আদালতে তিনি এই নিরাপদ দূরত্ব কমিয়ে ২৫০০ ফুট করার অনুরোধ করেন, কারণ ওই কিশোর ছেলেটি প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে তার এলাকার আশেপাশে সময় কাটায় এবং কাজ করে। বিচারক তার এই আবেদন তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রসিকিউটর জ্যাকলিন ম্যাকঅ্যানড্রু আদালতে বলেছেন, ক্রিস্টিনা ফর্মেলা ওই কিশোরটিকে ১৪ বছর বয়স থেকে ধীরে ধীরে প্রলুব্ধ করে আসছিলেন। তিনি মিথ্যা নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করেন এবং বারবার যৌন নিপীড়ন চালান। ফর্মেলা দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ৬০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে জানিয়েছেন, শুনানির সময় ফর্মেলা ও তার স্বামী একে অপরের হাতে হাত রেখে হাসিমুখে বসে ছিলেন। তাদের আত্মবিশ্বাস দেখে সবাই হতবাক হয়েছেন। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সমালোচকদের মতে, অভিযুক্ত শিক্ষিকার সৌন্দর্য ও বৈষয়িক প্রভাব নিয়ে সমাজে এক ধরনের সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পুরুষ অভিযুক্ত হলে এই ধরনের পরিস্থিতি বা আদালতের প্রতি এমন অনুরোধ ভাবাই যেত না এবং নারী হওয়ায় সামাজিক প্রতিক্রিয়া ভিন্ন রকম হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএস