খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের গুজরাট রাজ্যের পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ৩০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। তবে অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাট হাইকোর্ট তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও, রায় ঘোষণার পরপরই হৃদরোগে তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালে, যখন বাবুভাই আহমেদাবাদে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তাকে ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে (Prevention of Corruption Act) মামলা দায়ের করা হয়।
এরপরের বছর, অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে, সেশনস কোর্টে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন করা হয়, এবং ২০০৩ সালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২০০৪ সালে সেশনস কোর্ট প্রজাপতিকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩,০০০ টাকা জরিমানা আদেশ দেয়।
বাবুভাই রায়ের বিরুদ্ধে গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন। কিন্তু তার আপিল ২২ বছর ধরে বিচার ব্যবস্থায় স্থগিত থাকে। অবশেষে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় ঘোষণা করে। আদালত জানিয়েছে, সাক্ষীদের বয়ানগুলোতে গুরুতর অসঙ্গতি ছিল, এবং অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে।
বাবুভাইয়ের পক্ষে আইনজীবী নীতিন গান্ধী জানান, পুরো মামলাটি সন্দেহের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর বাবুভাই বলেন, “আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে তুলে নেন, তবুও আমার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।”
দুঃখজনকভাবে, রায় ঘোষণার পরপরই তিনি বাড়ি ফিরে গেলে পরের দিন হৃদরোগে মারা যান। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানাচ্ছেন, যদি তিনি কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তবে সেটি প্রকৃত আনন্দের মুহূর্ত হতো।
আইনজীবী নীতিন গান্ধী আরও বলেন, “গতকাল তিনি অফিসে ভীষণ খুশি ছিলেন। তাকে জানিয়েছিলাম, তিনি সরকারের কাছ থেকে যে সমস্ত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলোর জন্য আবেদন করা উচিত। পরের দিন ফোনে জানতে পারি তিনি হৃদরোগে মারা গেছেন।”
নিচের টেবিলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| সাল | ঘটনা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৯৯৬ | ২০ রুপি ঘুষের অভিযোগ | আহমেদাবাদে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে চাকরিরত ছিলেন বাবুভাই |
| ১৯৯৭ | চার্জশিট দাখিল | সেশনস কোর্টে মামলা শুরু |
| ২০০২ | অভিযোগ গঠন | বিচার প্রক্রিয়া এগোতে থাকে |
| ২০০৩ | সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু | সাক্ষী ও প্রমাণের পর্যবেক্ষণ |
| ২০০৪ | সেশনস কোর্ট রায় | চার বছরের কারাদণ্ড, ৩,০০০ টাকা জরিমানা |
| ২০০৪–২০২৬ | আপিল স্থগিত | ২২ বছর ধরে বিচার ঝুলে থাকে |
| ২০২৬ (৪ ফেব্রুয়ারি) | হাইকোর্ট রায় | বাবুভাইকে নির্দোষ ঘোষণা |
| ২০২৬ (৫ ফেব্রুয়ারি) | মৃত্যু | হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটে |
এই ঘটনা ভারতের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা এবং নির্দোষ মানুষের প্রতি সামাজিক ও মানসিক প্রভাবের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাবুভাই প্রজাপতির জীবন ও মৃত্যু একদিকে মানবিক ট্রাজেডি, অন্যদিকে আইনি ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের প্রতীক।