খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে ফেলার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘এই বাড়িটিকে আওয়ামী লীগের তীর্থস্থান বলা হয়। এই তীর্থস্থানকে জনগণ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। এটা আটকানোর জন্য আওয়ামী লীগের কাউকে পাওয়া গেছে? কাউকেই পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ ২৬০ বিলিয়নের বেশি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। সেই টাকা দিয়ে এখন এ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এই দেড় দশকে আওয়ামী লীগ নিপীড়কের শ্রেণিতে ছিল। আর বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ছিল। আওয়ামী পরবর্তী লড়াইটা অব্যাহত রাখতে হবে।’
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে এক লাইভে এসে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে ফ্যাসিবাদকে নির্মূলের পর তার প্রতীকগুলোকে রেখে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে ন্যূনতম সরি ফিলিংস নেই। এখনো হুমকি-ধামকি অব্যাহত আছে। গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষকে নাগরিক নয়, বরং প্রজা বানিয়ে রেখেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বর্তমানে এ দেশে অপ্রাসঙ্গিক। দলটি প্রাসঙ্গিক থাকলে ৫ আগস্ট হতো না।’
এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ কোন জাতীয় সম্পদের ক্ষতি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘৩২ নম্বরের বাড়ি ৫ আগস্টেই ধূলিসাৎ করে দেয়া উচিত ছিল, যেটা পরবর্তীতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে করেছে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে সবচেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করছে আওয়ামী লীগ। তাদের কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায়। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমেন্টে হুমকি ধামকির স্বাধীনতা উপভোগ করছে।’
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী বাংলাদেশটা আমাদের। আমরা যারা ফ্যাসিবাদ উৎখাত করেছি এই বাংলাদেশটা আমাদের।
এ সময় তিনি সচিব-আমলাদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘আপনাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। আপনারা জনগণের সেবা করতে আসছেন। আপনারা জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আপনারা রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না। এটা নিজের মধ্যে ধারণ করুন। আপনারা যদি মনে করেন সচিবালয়ে বসে, আপনারা ধানমন্ডির সাথে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বিদ্যমান রাখবেন। তাহলে আওয়ামী লীগকে যেভাবে বাংলাদেশ থেকে অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে আপনাদের অপ্রাসঙ্গিক করে দেয়া হবে।’
হাসনাত বলেন, ‘জনগণের জন্য কাজ করুন, জনগণের শক্তি অনুধাবন করুন আমি খুব করে চাইবো, ধানমন্ডি ৩২ এর পরিণতি যেন সচিবালয়ের না হয়, আমি এটা খুব করে চাইবো, মন থেকে চাইবো কোনো এক সময়, হয়তো এই বছর না হোক, ১০ বছর পর হোক, ১৫ বছর পরে, ২০ বছর পরে সচিবালয়ের পরিণতি যেন গণভবনের মতো না হয়। সুতরাং শিক্ষা গ্রহণ করুন, ধানমন্ডি ৩২ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, গণভবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।’
খবরওয়ালা/এমবি