খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ভোরের মিরপুরের আকাশ তখনও মেঘলা। হোপ স্কুলের গলিতে মানুষের নজর তখন উঁচু এক নারিকেল গাছের দিকে। গাছের ডালের মাথায় ভয়ে কুঁকড়ে বসে রয়েছে একটি বিড়াল।
গত দুই দিন ধরে খাবার ও বিশ্রাম ছাড়াই বসে আছে কেবল আতঙ্ক আর অপেক্ষায়। গলির মানুষজন আশার চোখে দাঁড়িয়ে দেখছেন, বিড়ালটি যেন নিরাপদে নামতে পারে।
প্রথম দিন থেকেই স্থানীয়রা নানা চেষ্টা চালান। খাবারের টোপ দেওয়া হয়, লাঠি দিয়ে আলতো করে নামানোর চেষ্টা হয়, এমনকি মই ব্যবহার করেও নিচে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই ভয়ে বিড়ালটি আরও ওপরে চলে যায়।
এই দৃশ্য দেখে নুসরাত জাহান নামে এক তরুণী ফেসবুকে সাহায্যের জন্য পোস্ট দেন। পোস্টে মিজানুর রহমানকে ট্যাগ করেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে বিষয়টি জানান।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিষয়টি জানার পর প্রশাসক এজাজ দ্রুত যোগাযোগ করেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এবিএম সামসুল আলমের সঙ্গে।
বিড়ালটি উদ্ধারের নির্দেশনা দিয়ে ডিএনসিসির কর্মীদের উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু উচ্চতার কারণে একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিড়ালটি তখনও নিরুপায় অবস্থায় ছিল।
প্রশাসকের নির্দেশে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বিড়ালটি নিরাপদে নামানো সম্ভব হয়।
নিচে নামার পর তাকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, মুক্তির স্বাদ পাওয়া বিড়ালটি আর বন্দি থাকতে চায়নি। সুস্থ অবস্থায় হুট করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মানুষের চোখে আনন্দ—কারণ প্রাণটি বেঁচে গেছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, মানুষের পাশাপাশি সব প্রাণীও যেন নিরাপদে বাঁচতে পারে, আমরা সে রকম একটি বাসযোগ্য শহর গড়ার চেষ্টা করছি।
উদ্ধারের পর প্রশাসক ফায়ার সার্ভিসের ডিজিকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শহরকে সবার জন্য নিরাপদ করা সম্ভব।
খবরওয়ালা/শরিফ