খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
চট্টগ্রামে ছয় শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নাজিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (০৪ জুন) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ চট্টগ্রামের বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় দেন।
দণ্ডিত নাজিম উদ্দিন ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ গ্রামের হাফেজ গোলমুর রহমানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মুরাদপুরে রহমানিয়া তাহফীজুল কোরআন একাডেমির শিক্ষক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিউল মোর্শেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালত আসামি নাজিম উদ্দিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন। রায়ের সময় এজলাসে আসামি উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানামূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।’
পিপি বলেন, ‘২০২১ সালের ৪ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। আসামিপক্ষে আসামিসহ দুজন সাফাই সাক্ষ্য দেন। পরে যুক্তিতর্ক শেষে আজ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।’
আদালত সূত্র জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার ছয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন শিক্ষক নাজিমুদ্দীন। ধর্ষণের বিষয়টি না জানাতে শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি বলে দেবে জানালে এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারের লোকজন এসে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরাও মুখ খোলে।
এই ঘটনায় ২০২১ সালের ৪ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একজনের অভিভাবক বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় নাজিম উদ্দিনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় পরে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আসামি নাজিম উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার বাদী বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি। মাদ্রাসার ভেতরে ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে আমরা কেউই জানতাম না। আমার ছোট ভাইও একজন ভিকটিম ছিল। কিন্তু সে এই ঘটনার বিষয়ে কিছু বলত না।
ওই মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে বেরিয়ে আসা এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পরে ‘আমিসহ অন্য ভিকটিমদের অভিভাবক সবাই মিলে মাদ্রাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করি।’
খবরওয়ালা/এসআর