খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অনুমোদন পেল ‘বিশেষ বৃত্তি নীতিমালা-২০২৫’। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা বহু শিক্ষার্থী এই নীতিমালার মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বলছেন—“সময়ের দাবি পূরণ”।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০৪তম সভায় নীতিমালাটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পায়। নীতিমালাটি তৈরি হয়েছে কয়েক মাসের পর্যালোচনা, মতামত সংগ্রহ ও বিভিন্ন বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে, যাতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রয়োজন এবং বাস্তবতার সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে মোট পাঁচটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য হবেন। এ যোগ্যতার তালিকায় স্নাতকের চার বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের একটি বর্ষ অন্তর্ভুক্ত। প্রশাসন জানিয়েছে, এতে করে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ধারাবাহিকতা এবং নিয়মিততা বজায় থাকবে।
বাছাইয়ের জন্য চারটি সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে:
আর্থিক অসচ্ছলতা
শিক্ষাগত মেধা
শ্রেণি-উপস্থিতি
সেমিস্টারভিত্তিক ফলাফল
এই চারটির সমন্বয়ে ইউনিফাইড স্কোর তৈরি হবে এবং তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।
নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে—যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় হলের সিট সুবিধা পাচ্ছেন অথবা সচ্ছল পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বাস করছেন, তারা এ বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না। একইভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গ, পুনর্ভর্তি হওয়া বা অনিয়মে জড়িত শিক্ষার্থীরাও বাদ পড়বেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃত্তি মূলত তাদের জন্যই, যাদের সত্যিই আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
বাছাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। প্রথমে প্রতিটি বিভাগীয় কমিটি প্রাথমিক বিবেচনার তালিকা তৈরি করবে। এরপর কেন্দ্রীয় বিশেষ বৃত্তি কমিটি তা যাচাই করে উপাচার্যের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে, এবং বৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ ৭০% শিক্ষার্থী এই সুবিধা পেতে পারেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি বিরল উদ্যোগ, কারণ সাধারণত এ ধরনের বৃত্তি প্রোগ্রাম খুব সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন জানান, “নীতিমালাটি আমরা যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুত করেছি। বিজ্ঞপ্তিতে কার্যকর হওয়ার তারিখে টাইপিং ভুল ছিল—যা সংশোধন করে ১ জুলাই ২০২৫ করা হয়েছে।” তার এ বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে প্রশাসন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই বৃত্তি নীতিমালা শুধু শিক্ষামান বৃদ্ধি করবে না—বরং টিকে থাকা শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমিয়ে তাদের পড়াশোনায় মনোনিবেশে সাহায্য করবে। আর্থিক বৈষম্যের কারণে পড়ালেখা বাদ দেওয়া প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।