খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ৭ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কোরবানির পশুর এক-তৃতীয়াংশ মাংস দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের বিধান থাকায় ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে অতিরিক্ত মাংস বিক্রির প্রবণতা। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দরিদ্র ও কোরবানিতে নিয়োজিত অনেকে বাড়তি মাংস বিক্রি করে দিচ্ছেন।
শনিবার (৭ জুন) দুপুরে মালিবাগ রেলক্রসিং, মগবাজার, বাড্ডাসহ রাজধানীর জনবহুল এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে পলিথিন বা কাপড় বিছিয়ে গরুর মাংস বিক্রি করছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও কসাইরা। এসময় সেখানে অস্থায়ী দোকানে জমজমাট কেনাবেচা চলছিল।
মালিবাগে দেখা যায়, দরিদ্রদের কাছ থেকে মাংস কিনে আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন কিছু ফড়িয়া।
শান্তিনগরের জলিল মিয়া সাড়ে তিন কেজি মাংস কিনেছেন ৮০০ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, ‘টাটকা মাংস দেখে কিনলাম। দাম ৮০০ টাকা হলেও কোরবানির গরুর গোস্ত বলে নিলাম।’
মালিবাগ রেল ক্রসিং, মগবাজার ও বাড্ডা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে কোরবানির গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। হাড় ছাড়া মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। এছাড়া মাথার মাংস মিলছে ৫০০ টাকায়। ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মিক্সড মাংস।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে পলিথিন বা বিছানা পেতে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির মাংস। যারা কোরবানি দিতে পারেননি বা কম দামে কিনতে চান তারাই মূলত এসব মাংসের ক্রেতা। মাংসের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে গরুর ভুঁড়ি, মাথা ও হাড়। গরুর ভুঁড়ি মিলছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা প্রতিকেজি।
মগবাজার ওয়্যারলেস গেট, বাড্ডা এবং মালিবাগ ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে পলিথিন পেতে মাংস বিক্রি চলছে। এসব দোকানে গরুর মাথা ও পায়ের মাংস বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব মাংস ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত অনেকেই যারা কোরবানি দিতে পারেননি, তারাই মূলত এসব মাংসের ক্রেতা। কেউ কেউ পরিবার-পরিজনের জন্য কয়েক কেজি করে মাংস কিনছেন, আবার কেউ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যও সংগ্রহ করছেন।
এভাবেই ঈদের দিন রাজধানীর অলিগলিতে যেন গড়ে উঠেছে একেকটা অস্থায়ী ‘মাংসের হাট’। সামাজিক বাস্তবতায় এ ছবি যেমন কোরবানির উৎসবের এক ভিন্ন রূপ তুলে ধরে, তেমনি দরিদ্র জনগণের আর্থিক চাহিদা পূরণের বিকল্প পথও হয়ে উঠেছে।