খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের পূর্বশর্ত হলো শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। জিডিপির তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ ছাড়া কেবল সংখ্যাগত বরাদ্দ বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না; প্রয়োজন নীতিগত স্পষ্টতা ও কৌশলগত পরিকল্পনা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও শিক্ষা এখনো বাজেট প্রণয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়নি। রাষ্ট্রের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল; তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে উত্তরণের জন্য শিক্ষা খাতকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে আনতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি, যা আন্তর্জাতিকভাবে সুপারিশকৃত ৪–৬ শতাংশের তুলনায় কম। দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা অবকাঠামো গঠন এবং কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার সম্প্রসারণে এ হার কমপক্ষে ৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো শিক্ষায় তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ দিয়ে দক্ষতা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নীতিনির্ধারণে এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা জরুরি।
নিম্নে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের আনুমানিক শিক্ষাবাজেট চিত্র উপস্থাপন করা হলো—
| দেশ | জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা বরাদ্দ | কৌশলগত গুরুত্ব |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ | প্রায় ২% | অবকাঠামো ও প্রাথমিক শিক্ষায় সীমিত জোর |
| নেপাল | প্রায় ৪% | প্রাথমিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্ব |
| শ্রীলঙ্কা | প্রায় ৩–৪% | মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ |
পাঠ্যক্রম বিতর্ক প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে যেকোনো কারিকুলাম সংস্কার বাস্তবতার নিরিখে, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মানদণ্ড বিবেচনায় হতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়ম, নকল প্রতিরোধ এবং শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, তার অগ্রাধিকার হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলা। গবেষণা ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশকে এমন অবস্থানে নিতে হবে, যাতে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের শিক্ষা ও একাডেমিক মান স্বীকৃতি পায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমন্বিত পরিকল্পনা, সুশাসন ও বাজেট পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুণগত মান, দক্ষতা ও গবেষণাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করতে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।