খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনেই দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে ৩১৭ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি ১৬ পর্যন্ত) সামগ্রিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে প্রবাসীরা মোট ২১ হাজার ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৪৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১.৭ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং চলমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
নিচে প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো:
| সময়কাল | রেমিট্যান্স (মিলিয়ন ডলার) | আগের বছরের একই সময় (মিলিয়ন ডলার) | প্রবৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| ১–১৬ ফেব্রুয়ারি | ১,৮০৭ | ১,৪৯০ | ২১.২% |
| জুলাই–১৬ ফেব্রুয়ারি | ২১,২৪০ | ১৭,৪৫২ | প্রায় ২১.৭% |
এদিকে সদ্য বিদায়ী জানুয়ারি মাসে একক মাস হিসেবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। পুরো জানুয়ারি জুড়ে মোট ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৩১৭ কোটি ডলার দেশে পাঠানো হয়েছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে এর সমপরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাসে এই পরিমাণ রেমিট্যান্স সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম উচ্চ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা অব্যাহত থাকা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজীকরণ, এবং অনানুষ্ঠানিক হুন্ডি লেনদেন নিরুৎসাহিত করতে নেওয়া পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণও রেমিট্যান্স বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি প্রবাসী আয় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামনের মাসগুলোতেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।