খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের একটি আবাসিক এলাকায় বসতবাড়ির ভেতর গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং উৎপাদন-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তা থানার বড়বাড়ী কাজীবাড়ী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত টানা অভিযান পরিচালনা করা হয়। বড়বাড়ী এলাকার ২৪/এ নম্বর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, সাধারণ একটি কক্ষকে অত্যন্ত কৌশলে ছোট আকারের ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে ইয়াবা প্রস্তুতের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার মতো সরঞ্জাম সাজানো ছিল।
অভিযানের শুরুতে দুটি জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঘরের ভেতরে সংরক্ষিত ২২টি প্যাকেট থেকে আরও ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে, যার মোট ওজন ৪৮৯ গ্রাম।
| আলামত | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ৪,৫০০ পিস |
| মোট ওজন | ৪৮৯ গ্রাম |
| কাঁচামাল | সাদা পাউডারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক |
| উৎপাদন সক্ষমতা | আনুমানিক ২০,০০০ পিস |
| অন্যান্য সরঞ্জাম | ট্যাবলেট ছাঁচ, মিক্সিং যন্ত্র, ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিন |
| জব্দকৃত সামগ্রী | পলিপ্যাকেট, মোড়কজাত উপকরণ, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ |
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ করা কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি উৎপাদন সম্ভব ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, কাঁচামাল শেষ হয়ে গেলে তিনি ৫০০ পিস ইয়াবা গুঁড়া করে মিশ্রণের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার পিস নতুন ট্যাবলেট তৈরি করতেন। এতে বোঝা যায়, এটি ছিল সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত একটি ক্ষুদ্র উৎপাদন কেন্দ্র।
জানা গেছে, কাঁচামালের একটি অংশ মিয়ানমার থেকে সংগ্রহ করা হতো। অবশিষ্ট উপকরণ স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একটি চক্রের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।
ঘটনার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. আবু নাসের। ডিএনসি জানিয়েছে, এ কারখানার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ল্যাব স্থাপন জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এতে বিস্ফোরণ বা বিষাক্ত রাসায়নিকের ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি সমাজে মাদকের সহজ প্রাপ্যতা বাড়ে। ডিএনসি বলছে, নগর ও উপনগর এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট আকারের মাদক উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।