খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানে ইফতার বা সেহরির খাবারের মধ্যে টকদই বহু মানুষের পছন্দের একটি উপকরণ। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং স্বাদে মনোহর হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে টকদই খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
টকদইতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন। এগুলো শরীরের মৌলিক পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টকদই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা সহজ হয়।
গবেষণায় প্রমাণিত কিছু তথ্য:
| বছর | সমীক্ষার ধরন | ফলাফল |
|---|---|---|
| 2012–2022 | 10 বছরের জনসংখ্যা ভিত্তিক সমীক্ষা | দৈনিক পরিমিত টকদই খেলে ডায়াবেটিস ঝুঁকি ২০–৪০% কমে |
| 2020 | The Journal of Nutrition প্রকাশিত গবেষণা | নিয়মিত দই খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক |
| 2019 | যুক্তরাষ্ট্র FDA-এর পরামর্শ | দই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ |
টকদই হলো ফার্মেন্টেড খাবার, যা প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে, বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে এবং শরীরের প্রদাহ কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টকদই খেলে ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে না।
কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI): ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী, রক্তে ধীরে ধীরে গ্লুকোজ ছেড়ে হঠাৎ সুগার বৃদ্ধি রোধ করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকে, অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
পুষ্টি সমৃদ্ধ: ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন শরীরকে সুস্থ রাখে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, দিনে ১০০–২০০ গ্রাম (প্রায় এক কাপ) ঘরে তৈরি টকদই খাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফ্লেভারযুক্ত দই এড়িয়ে চলাই ভালো। টকদইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বীজ মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।
যাদের সতর্ক থাকতে হবে: ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে টকদই অন্তর্ভুক্ত করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ছোট একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল দিতে পারে। রোজার সময়ে সঠিক পরিমাণে টকদই খাওয়াই সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।