খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের ক্রিকেটার উমরান মালিক ফের সমালোচনার কেন্দ্রে এসেছেন তার দুর্বল বোলিংয়ের কারণে। ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে ও ৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা এই তরুণ পেসার মাত্র ৬ বলেই ৩৬ রান খরচ করেছেন। আইপিএলের গতির ঝড় হিসেবে পরিচিত উমরান এবার ডিওয়াই পাতিল টি-টোয়েন্টি কাপে এই অদ্ভুত বোলিং দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে উমরান খেলেছেন টাটা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে, প্রতিপক্ষ ছিল মুম্বাই কাস্টমস। প্রথমে ব্যাট করে টাটা স্পোর্টস ১৯৩ রান করে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে নেমে উমরান এক ওভারে ২৩ রান দেন। তবে ইনিংসের ১৩তম ওভারে ফের বোলিং করার সময়ই তিনি ইতিহাস গড়ে দেন: মাত্র ৬ বলেই ৩৬ রান।
উমরানের এই ওভারটি বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়। ওভারের প্রথম বলে এক রান, দ্বিতীয় বলে ঋগ্বেদ মোরে চার, তৃতীয় বলে ছক্কা — যদিও এটি ‘নো’ ঘোষণা করা হয়। ফ্রি হিট ডেলিভারিতে কোনো রান হয়নি, কিন্তু পরের দুই বলে আবারও ছক্কা ও চার। এরপর একটি ওয়াইড এবং একটি নো বলে আরও রান যোগ হয়। ফ্রি হিটে শচীন যাদব চার মেরে ‘নো’ হয়েছে বলে রেকর্ড হয়, এরপর তার ফ্রি হিটে আবারও ছক্কা।
এই ওভারের পর উমরানের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ২–০–৫৯–০, যা টিমের জন্য মারাত্মক অবস্থা তৈরি করে। অধিনায়ক শার্দূল ঠাকুর এত বেশি রান দেওয়ার কারণে উমরানকে পরবর্তী ওভারে বোলিং দেননি।
উমরানের বোলিংয়ের প্রভাব স্পষ্ট: মুম্বাই কাস্টমসের দুই ওপেনার মোরে ও যাদব ইনিংসের ১৩তম ওভারের আগে ১২৮ রান জুটিতে যোগ করেছেন, জয়ের জন্য ৮ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬৫ রান। এরপর উমরানের ওভারে ৩৬ রান খরচের ফলে প্রতিপক্ষ সহজেই পরের ১৮ বলেই ২৯ রান তুলে নেয় এবং জয় নিশ্চিত করে।
| বোলারের নাম | ওভার | বল | রান | ছক্কা | চার | ওয়াইড/নো | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| উমরান মালিক | ২য় | ৬ | ২৩ | ৩ | ১ | ০ | ঋগ্বেদ মোরের ওভার |
| উমরান মালিক | ১৩তম | ৬ | ৩৬ | ৩ | ২ | ২ | মোরে ও যাদবের ফ্রি হিট ওভার |
| মোট | ২ | ১২ | ৫৯ | ৬ | ৩ | ২ | দুই ওভারে মোট রান খরচ |
২৬ বছর বয়সী এই পেসার ভারতীয় ক্রিকেটের বড় প্রতিভা হলেও, এই ম্যাচে তার বোলিং টিমকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সমালোচকরা বলছেন, তরুণ বোলারের অমসৃণ বোলিং এবং নিয়ন্ত্রণহীন বল তাদের দলকে প্রভাবিত করেছে, যা ভবিষ্যতে উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
উমরান মালিকের এই কাণ্ড ক্রিকেট অ্যানালিস্টদের চোখে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অস্থিরতা ও চাপের মোকাবেলার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ম্যাচগুলোতে তার নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা দেখাই হবে তার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।