খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ঘরের বাসিন্দাদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় একজন প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালাচ্ছে এবং ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত প্রায় ২টার দিকে খাগকান্দা ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রায় ১০–১৫ জনের একটি দল সৌদি প্রবাসী আজাদের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা প্রথমে বাড়ির ছোট গেট ভেঙে প্রবেশ করে এবং ঘরের সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
ডাকাতির সময় লুট করা মালামালের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যমানের বলে জানা গেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।
ঘরের লোকদের চিৎকারে প্রতিবেশী আক্তার ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এ সময় ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং গুরুতর আহত করেন। আহত আক্তার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান,
“আমরা লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ডাকাতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছি। ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়দের মতে, ডাকাতির সময় সংঘটিত হঠাৎ হামলা ও অস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | কদমতলী গ্রাম, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ |
| ঘটনার সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি, গভীর রাত (প্রায় ২টা) |
| ডাকাত দলের সংখ্যা | ১০–১৫ জন |
| লুটকৃত মালামাল | নগদ টাকা, মোবাইল, গহনা, অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী (~১,৫০,০০০ টাকা) |
| আহত ব্যক্তি | প্রতিবেশী আক্তার |
| চিকিৎসা | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| পুলিশের পদক্ষেপ | ঘটনাস্থলে মোতায়েন, অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার |
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে আর্থিক লোভ ও পরিকল্পিত ডাকাতি থাকার সম্ভাবনা পুলিশ তদন্ত করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতের এই ভয়ঙ্কর ঘটনার ফলে এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে আরও সজাগ হয়ে উঠেছেন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকায় আশা করা যাচ্ছে দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা বিষয়ে জনমতের গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এখন জনসাধারণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।