খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জম্মু-কাশ্মির ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় লেখা হলো, যখন আকিব নবি প্রথমবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েছেন। কর্ণাটকের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বড় লিড নেওয়ার পাশাপাশি ২৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার তার বোলিং দক্ষতায় জম্মু-কাশ্মিরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।
ফাইনালের প্রথম ইনিংসে আকিব নবির অসাধারণ বোলিংয়ে কর্ণাটক মাত্র ২৯৩ রানে অলআউট হয়। তিনি ২৩ ওভারে মাত্র ৫৪ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করেন। এই পারফরম্যান্সের ফলে এক মৌসুমে তার মোট উইকেট সংখ্যা ৬০-এ পৌঁছে যায়, যা জম্মু-কাশ্মিরের কোনো বোলারের জন্য নতুন রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন উত্তরাখণ্ডের মায়াঙ্ক মিশ্র ৫৯ উইকেট নিয়ে।
জম্মু-কাশ্মিরের ব্যাটসম্যানরাও ফাইনালে দারুণ খেলেছেন। প্রথম ইনিংসে দল ৫৮৪ রান সংগ্রহ করে, যেখানে সুভম পুন্ডি সর্বোচ্চ ১২১ রানের ইনিংস খেলেন। কর্ণাটকের পক্ষে মায়াঙ্ক আগারওয়াল ১৬০ রানের অর্ধশতক করেন, তবে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ৫ উইকেট নিয়ে কর্ণাটকের বোলিংয়ে দাপট দেখান।
দ্বিতীয় ইনিংসেও জম্মু-কাশ্মির শক্তিশালী শুরু করেছে। ৭২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দল ৩৬৮ রানের লিড বজায় রেখেছে। প্রথমবার ফাইনালে উঠে এই দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে।
রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে এক মৌসুমে ৬০ বা তার বেশি উইকেট শিকার করা বোলারের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। আকিব নবি এই তালিকার সপ্তম বোলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। তার এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে আরও উন্নত হতে পারে।
| বোলার | দল | মৌসুম | উইকেট |
|---|---|---|---|
| হার্শ দুবে | বিদর্ভ | ২০২৪-২৫ | ৬৯ |
| আশুতোষ আমান | বিহার | ২০১৮-১৯ | ৬৮ |
| জয়দেব উনাদকাট | সৌরাষ্ট্র | ২০১৯-২০ | ৬৭ |
| বিশান সিং বেদি | দিল্লি | ১৯৭৪-৭৫ | ৬৪ |
| দুদা গণেশ | কর্ণাটক | ১৯৯৮-৯৯ | ৬২ |
| কনওয়ালজিত সিং | হায়দ্রাবাদ | ১৯৯৯-২০০০ | ৬২ |
| আকিব নবি | জম্মু-কাশ্মির | ২০২৫-২৬ (চলমান) | ৬০* |
আকিব নবির এই নজিরবিহীন পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং জম্মু-কাশ্মিরের ক্রিকেটের জন্যও একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে। দল ও সমর্থকদের আশা, এই ফাইনাল তাদের প্রথম রঞ্জি ট্রফি জয়ের দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে চলেছে।
শেয়ার করা তথ্য এবং বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট, আকিব নবি ও জম্মু-কাশ্মিরের এই যাত্রা ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।