খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা: প্রতি বছর ১ মার্চ নানা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলেও এ বছর জাতীয় বীমা দিবস কার্যত নিস্তব্ধতার মধ্যেই কাটছে। বীমা খাতের প্রসার, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি উদযাপনের যে ধারা ২০২০ সাল থেকে গড়ে উঠেছিল, এবার তার ব্যত্যয় ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বা বেসরকারি কোনো পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।
জাতীয় বীমা দিবসের মূল উদ্দেশ্য ছিল বীমা শিল্পকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করা, গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। প্রতিবছর রাজধানীসহ বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা, র্যালি, সেমিনার ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হতো। রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন ছিল নিয়মিত চিত্র, যেখানে সরকারপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করতেন।
কিন্তু এ বছর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। সংস্থাটির পরামর্শক (মিডিয়া ও যোগাযোগ) এবং মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না আসায় আইডিআরএ দিবসটি উদযাপনে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে সরকারি-বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয়োজন দেখা যায়নি।
জাতীয় বীমা দিবসের প্রশাসনিক অগ্রযাত্রা ছিল ধাপে ধাপে। শুরুতে দিবসটি ‘খ’ শ্রেণীভুক্ত ছিল। পরে ২০২১ সালে এটিকে ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত করার দাবি ওঠে। ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি আইডিআরএ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়। একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় ‘ক’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত হয় এবং ১০ অক্টোবর মন্ত্রিসভা প্রস্তাব অনুমোদন করে। ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে দিবসটি যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিম্নে জাতীয় বীমা দিবসের প্রশাসনিক অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| সাল ও তারিখ | সিদ্ধান্ত/পদক্ষেপ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ১৫ জানুয়ারি ২০২০ | ‘খ’ শ্রেণীভুক্ত দিবস হিসেবে অনুমোদন | রাষ্ট্রীয় উদযাপন শুরু |
| ১ মার্চ ২০২১ | ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীতের দাবি | শিল্পসংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব |
| ২ জানুয়ারি ২০২২ | আইডিআরএ’র আবেদন | ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীতকরণ |
| ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত | ‘খ’ থেকে ‘ক’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্তি |
| ১০ অক্টোবর ২০২২ | মন্ত্রিসভায় অনুমোদন | প্রস্তাব চূড়ান্ত |
| ১৩ অক্টোবর ২০২৩ | পরিপত্র জারি | যথাযথ পালনের নির্দেশ |
বাংলাদেশে বর্তমানে জীবন ও সাধারণ বীমা মিলিয়ে ৮০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর্থিক নিরাপত্তা, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বীমা খাতের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তবু জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান এখনও তুলনামূলক কম, যা বাড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় বীমা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি খাতটির ভাবমূর্তি উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণী আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এ বছর কোনো আয়োজন না হওয়ায় শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে দিবসটির ধারাবাহিক ও কার্যকর উদযাপনের মাধ্যমে বীমা খাতকে গতিশীল করার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে।