খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরান নির্মিত ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বর্তমানে বিশ্বের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আটকানো প্রায় অসম্ভব বলে প্রখ্যাত সামরিক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’ উল্লেখ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত তিনটি সফল আঘাত ঘটিয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র।
ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র মূলত হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পথ পরিবর্তন এবং কৌশলগত ম্যানুভার সম্পাদন করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির কারণে প্রচলিত রাডার ও ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমের জন্য এটিকে ধরা বা ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
প্রতিবেদনে ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কির বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি গত আগস্টে স্বীকার করেছিলেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত লক্ষ্যবস্তুর দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে তা ধ্বংস করার নীতিতে কাজ করে। তবে ফাত্তাহ-২-এর মতো মাধ্যাকর্ষণগত গতির দশগুণ (ম্যাক-১০) ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শব্দের ৩০ গুণ গতিতে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। এই গতিতে বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণজনিত কারণে বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে তা সম্ভব নয়।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহারিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগেই ইরানের পুরনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাপের মুখোমুখি হয়েছিল। নতুন হাইপারসনিক প্রযুক্তি সেই সংকটকে আরও জটিল করেছে। যদিও ইসরায়েল একটি বিশেষ জোন ডিফেন্স ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে, বাস্তবায়নের জন্য কয়েক দশক এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।
নিচের টেবিলে ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের মূল প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র | প্রচলিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা |
|---|---|---|
| গতি | ম্যাক-১০ (প্রায় ১২,৩০০ কিমি/ঘন্টা) | শব্দের ১–২ গুণের বেশি সম্ভব নয় |
| প্রযুক্তি | হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল | ব্যালিস্টিক ট্র্যাকিং, ইন্টারসেপ্টর |
| ম্যানুভার ক্ষমতা | উচ্চস্তরের বায়ুমণ্ডলে কৌশলগত পথ পরিবর্তন | সীমিত, পূর্বনির্ধারিত ট্র্যাক অনুসরণ |
| ধরা/নিষ্ক্রিয় করা | প্রায় অসম্ভব | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত কার্যকর |
| বাস্তবায়নের খরচ | – | বিশেষ জোন ডিফেন্স: কয়েক বিলিয়ন ডলার ও দশক সময় প্রয়োজন |
বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রাচীর অতিক্রম করতে পারবে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই, যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থির করে তুলছে।