খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন আজারবাইজানের ভূখণ্ডে পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আজারবাইজান এই মুহূর্তে তেহরান ও তাবরিজে অবস্থিত তাদের কূটনীতিকদের নিরাপদ স্থানে প্রত্যাহার করছে।
শুক্রবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভ জানিয়েছেন, “আমাদের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আমরা খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি।”
আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সম্প্রতি ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে:
নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে এক ড্রোন আঘাত করেছে।
শাকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে আরেকটি ড্রোন পড়েছে।
এই ঘটনায় কমপক্ষে দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। যদিও আঘাতের পরিমাণ সীমিত, স্থানীয় জনগণ উদ্বিগ্ন এবং নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইরান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, “ইরান কখনোই আজারবাইজানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিকে লক্ষ্য করে আঘাত করি না।”
নিচের টেবিলটি দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি ও ড্রোন আঘাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরছে:
| ঘটনা | স্থান | প্রভাব/হতাহত | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ড্রোন আঘাত | নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | টার্মিনাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত | বেসামরিক হতাহতের রিপোর্ট নেই |
| ড্রোন আঘাত | শাকারাবাদ গ্রাম, স্কুল ভবন সংলগ্ন | অন্তত ২ জন আহত | স্কুল ও স্থানীয় নিরাপত্তা সতর্ক |
| কূটনীতিক প্রত্যাহার | তেহরান দূতাবাস, তাবরিজ কনস্যুলেট | নিরাপত্তা নিশ্চিত | আজারবাইজান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ |
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উত্তেজনা শুধু সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার কারণে সীমিত নয়, বরং দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। আজারবাইজান ও ইরানের মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দুই দেশের মধ্যে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ ও সতর্ক সমঝোতার প্রয়োজন। তবে, ইরানের পক্ষের প্রকাশিত অবস্থান এবং আজারবাইজানের সতর্ক পদক্ষেপ প্রমাণ করছে, পরিস্থিতি আপাতত সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মনোযোগও এখন সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।