খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জনবহুল জেনেভা ক্যাম্পে একটি ভবনে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘিঞ্জি পরিবেশ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ক্যাম্পের শত শত পরিবার।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তারা আগুনের খবর পান। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ক্যাম্পের সরু গলির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা কাজ শুরু করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি চারতলা ভবনের ভেতর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের পর ভবনের একটি কক্ষে আগুন ধরে যায়। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে চারপাশ। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহিত বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জেনেভা ক্যাম্প অগ্নিকাণ্ড: একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | জেনেভা ক্যাম্প, মোহাম্মদপুর, ঢাকা |
| আগুনের সময় | রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট |
| আগুনের কারণ | গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ (প্রাথমিক ধারণা) |
| ভবনের ধরণ | চারতলা আবাসিক ভবন |
| ব্যবহৃত ইউনিট | ফায়ার সার্ভিসের ০২টি ইউনিট |
| হতাহত | নেই (প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী) |
| বর্তমান অবস্থা | আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক |
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকাটি ঢাকার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানকার ঘরগুলো অত্যন্ত লাগোয়া এবং গলিগুলো অত্যন্ত সরু। ফলে যেকোনো ছোট অগ্নিকাণ্ড এখানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। আজকের এই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনাটি ক্যাম্পের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে। অনেক সময় সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো মূল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খায়, যা জানমালের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। নিয়মিত পাইপ ও রেগুলেটর পরীক্ষা না করার ফলে সিলিন্ডার লিক হয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আজকের ঘটনায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিদর্শন করেছেন এবং আরও কোনো সুপ্ত আগুন আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্প এলাকায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ক্যাম্প নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।